৬/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৩০২ - হায়েজ অবস্থায় দাম্পত্য সংযম
হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সংস্পর্শ করা।
হায়েজ অবস্থায় মিশামিশি ও ইযার পরার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৩০২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩০২
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ ـ هُوَ الشَّيْبَانِيُّ ـ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ إِحْدَانَا إِذَا كَانَتْ حَائِضًا، فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ يُبَاشِرَهَا، أَمَرَهَا أَنْ تَتَّزِرَ فِي فَوْرِ حَيْضَتِهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا. قَالَتْ وَأَيُّكُمْ يَمْلِكُ إِرْبَهُ كَمَا كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَمْلِكُ إِرْبَهُ.تَابَعَهُ خَالِدٌ وَجَرِيرٌ عَنِ الشَّيْبَانِيِّ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমাদের কেউ হায়েয অবস্থায় থাকলে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তার সাথে মিশামিশি করতে চাইলে তাকে প্রবল হায়েযে ইযার পরার নির্দেশ দিতেন। তারপর তার সাথে মিশামিশি করতেন। তিনি [‘আয়িশা (রাঃ)] বলেনঃ তোমাদের মধ্যে নবী (ﷺ)-এর মত কাম-প্রবৃত্তি দমন করার শক্তি রাখে কে?খালিদ ও জারীর (রহঃ) শায়বানী (রহঃ) হতে এ হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৩০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো হায়েজ অবস্থায় দাম্পত্য আচরণ। আয়িশা (রাঃ) জানান, তাঁদের কেউ হায়েজ অবস্থায় থাকলে আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) মিশামিশি করতে চাইলে তাকে প্রবল হায়েজের সময় ইযার পরতে বলতেন। এরপর তিনি মিশামিশি করতেন। হাদিসটি খুব পরিষ্কারভাবে ইযার পরার কথা বলেছে এবং আয়িশা (রাঃ) শেষে সতর্ক করে বলেছেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মতো নিজের কামনা দমন করতে পারে কে? তাই এই হাদিস থেকে সংযম, সীমা মানা এবং হায়েজের সময় সতর্ক আচরণের শিক্ষা পাওয়া যায়। এখানে হালাল-হারামের বিস্তৃত আলোচনা করা হয়নি; বরং বর্ণিত কাজের মধ্যে সীমা, শালীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্পষ্ট। হায়েজের বিধান জানতে যারা খোঁজেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ অবস্থায় দাম্পত্য আচরণে সীমা মানার শিক্ষা আছে।
- ইযার পরার নির্দেশ শালীনতা ও সতর্কতার দিক দেখায়।
- নিজের প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ—আয়িশা (রাঃ)-এর মন্তব্য তা মনে করায়।
- হাদিসের বর্ণিত অংশের বাইরে অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত টানা উচিত নয়।
