২৪/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬২৬-[২১] - মিথ্যা স্বপ্ন বলার ভয়াবহতা
স্বপ্ন - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিথ্যা স্বপ্ন বলার ভয়াবহ সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬২৬-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬২৬-[২১]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مِنْ أَفْرَى الْفِرَى أَنْ يُرِيَ الرَّجُلُ عَيْنَيْهِ مَا لم تريا». رَوَاهُ البُخَارِيّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : সবচেয়ে নিকৃষ্টতম অপবাদ হলো, কারো নিজ চক্ষুদ্বয়কে এমন জিনিস দেখানো, যা তারা দেখেনি।
[১] সহীহ : বুখারী ৭০৪৩, আহমাদ ৫৭১১, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩০৬৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩১, শু‘আবুল ঈমান ৪৭৭১, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৭৬৩৭, আল জামি‘উস্ সগীর ৩৯৭৪, সহীহুল জামি‘ ২২১১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬২৬-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি ছোট হলেও অর্থে খুব গভীর। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, সবচেয়ে নিকৃষ্ট অপবাদের একটি হলো—মানুষ নিজের চোখকে এমন কিছু দেখানো, যা চোখ আসলে দেখেনি। সহজ ভাষায়, কেউ যদি বলে আমি এমন স্বপ্ন দেখেছি, অথচ সে তা দেখেনি, তাহলে এটি বড় ধরনের মিথ্যা। স্বপ্ন মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। তাই স্বপ্নের নামে মিথ্যা বলা শুধু সাধারণ মিথ্যা নয়, বরং চোখের নামে মিথ্যা দাবি করা। আজও অনেক মানুষ স্বপ্নের কথা বলে অন্যকে প্রভাবিত করতে চায়, ভয় দেখায় বা নিজের মর্যাদা বাড়াতে চায়। এই হাদিস মুমিনকে শেখায়, স্বপ্নের ব্যাপারে সত্যবাদী হতে হবে। যা দেখা হয়নি, তা দেখা হয়েছে বলা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা স্বপ্ন বানিয়ে বলা বড় অপবাদ।
- স্বপ্নের বিষয়ে সত্যবাদী থাকা মুমিনের আদব।
- নিজের চোখের নামে মিথ্যা দাবি করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- স্বপ্নকে মানুষকে প্রভাবিত করার মাধ্যম বানানো ঠিক নয়।
