২৫/১৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯৭৩-[২৭] - ইয়াতীমের সাথে ভালো ব্যবহার
সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ইয়াতীমের সাথে আচরণে ঘরের মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৯৭৩-[২৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৯৭৩-[২৭]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ بَيْتٍ فِي الْمُسْلِمِينَ بَيْتٌ فِيهِ يَتِيمٌ يُحْسَنُ إِلَيْهِ وَشَرُّ بَيت فِي المسلمينَ بيتٌ فِي يَتِيم يساء إِلَيْهِ». رَوَاهُ ابْن مَاجَه
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : মুসলিমদের ঘরের মধ্যে উত্তম ঘর সেটাই, যাতে ইয়াতীম আছে, আর তার সাথে উত্তম আচরণ করা হয় এবং মুসলিমের ঘরের মধ্যে খারাপ ঘর সেটা, যাতে ইয়াতীম আছে, কিন্তু তার সাথে অসদাচরণ করা হয়।
[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ ৩৬৭৯, য‘ঈফাহ্ ১৬৩৭, য‘ঈফুল জমি‘ ২৯০৫, য‘ঈফ আত্ তারগীব ১৫১০, য‘ঈফ লিত্ব ত্ববারানী ১০১১, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৪৭৮৫। হাদীসটি ‘‘ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়মান’’ নামের বর্ণনাকারী য‘ঈফ। য‘ঈফাহ্ ১৬৩৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯৭৩-[২৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুসলিমদের ঘরের মধ্যে উত্তম ও খারাপ ঘরের একটি মানদণ্ড বলেছেন। যে ঘরে ইয়াতীম আছে এবং তার সঙ্গে উত্তম আচরণ করা হয়, সেটি উত্তম ঘর। আর যে ঘরে ইয়াতীম আছে কিন্তু তার সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়, সেটি খারাপ ঘর। এখানে মূল বিষয় হলো ইয়াতীমের প্রতি দয়া, সম্মান ও ভালো ব্যবহার। শুধু ইয়াতীমকে ঘরে রাখা যথেষ্ট নয়; তার সঙ্গে আচরণ কেমন হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। শিশু যদি বাবা হারিয়ে অসহায় হয়, তার মন আরও বেশি যত্ন চায়। হাদিসটি পরিবারকে দায়িত্বশীল হতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতীমের সঙ্গে ভালো আচরণ ঘরের কল্যাণের বড় কারণ।
- ইয়াতীমকে আশ্রয় দিয়ে কষ্ট দেওয়া নিন্দিত কাজ।
- পরিবারে দুর্বল শিশুর মর্যাদা ও মন রক্ষা করা দরকার।
