২৫/১৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৩৮-[১২] - আপোষ করানোর বড় মর্যাদা
সাক্ষাৎ ত্যাগ, সম্পর্কচ্ছেদ ও দোষান্বেষণে নিষেধাজ্ঞা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দুজনের মধ্যে আপোষ করানোর ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৩৮-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৩৮-[১২]
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَفْضَلَ من درجةِ الصِّيامِ والصدقةِ وَالصَّلَاة؟» قُلْنَا: بَلَى. قَالَ: «إِصْلَاحُ ذَاتِ الْبَيْنِ وَفَسَادُ ذَاتِ الْبَيْنِ هِيَ الْحَالِقَةُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيح
আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি কি তোমাদের এমন কাজ সম্পর্কে বলব না, যার সওয়াবের মর্যাদা সিয়াম (রোজা), সাদাকাহ ও সালাতের চেয়েও বেশি? আবু দারদা (রাঃ) বলেন, তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: সে কাজ হলো, দুজন মুসলিমের মধ্যে আপস করানো। যে ব্যক্তি ঝগড়া ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে, সে যেন মস্তক মুণ্ডনকারী।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৯১৯, তিরমিযী ২৫০৯, সহীহুল জামি‘ ২৫৯৫, সহীহ আত্ তারগীব ২৮১৪, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৩০৩, আহমাদ ২৭৫০৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫০৯২, শু‘আবুল ঈমান ১১০৮৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৩৮-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি এমন কাজের কথা বলবেন না, যার সাওয়াবের মর্যাদা সিয়াম, সদাকাহ ও সালাতের চেয়েও বেশি। সাহাবিরা শুনতে চাইলে তিনি বলেন, সেটি হলো দুজন মুসলিমের মধ্যে আপোষ করানো। এরপর তিনি বলেন, ঝগড়া ও বিপর্যয় সৃষ্টি করা ‘মুণ্ডনকারী’। অনুবাদে বোঝা যায়, এটি সম্পর্ক ও দীনী অবস্থার জন্য ধ্বংসাত্মক। এই হাদিস আপোষ-মীমাংসার গুরুত্ব খুব শক্তভাবে তুলে ধরে। মানুষে মানুষে ঝগড়া হলে আগুনে ঘি ঢালা নয়, বরং ভালো কথা, নরম আচরণ ও ন্যায়ভিত্তিক পথে মিল করানো দরকার। একইভাবে বিবাদ ছড়ানো, গুজব বাড়ানো বা পক্ষপাত করে ফাটল তৈরি করা থেকে দূরে থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুজন মুসলিমের মধ্যে আপোষ করানো বড় মর্যাদার কাজ।
- বিবাদ বাড়ানো সম্পর্ক ও দীনী জীবনের ক্ষতি করে।
- ঝগড়া দেখলে ভালো কথায় মীমাংসার চেষ্টা করা উচিত।
- সালাত, সিয়াম ও সদাকাহর মর্যাদা বোঝার সঙ্গে সম্পর্কের দায়ও বুঝতে হবে।
