২৫/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১০২-[৩৫] - গালির জবাবে চুপ থাকার মর্যাদা
নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
গালির জবাবে ধৈর্য: ফেরেশতার সাহায্যের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫১০২-[৩৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫১০২-[৩৫]
وَعَنْهُ أَنَّ رَجُلًا شَتَمَ أَبَا بَكْرٍ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ يَتَعَجَّبُ وَيَتَبَسَّمُ فَلَمَّا أَكْثَرَ رَدَّ عَلَيْهِ بَعْضَ قَوْلِهِ فَغَضِبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَامَ فَلَحِقَهُ أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَانَ يَشْتُمُنِي وَأَنْتَ جَالِسٌ فَلَمَّا رَدَدْتُ عَلَيْهِ بَعْضَ قَوْلِهِ غَضِبْتَ وَقُمْتَ.قَالَ: «كَانَ مَعَكَ مَلَكٌ يَرُدُّ عَلَيْهِ فَلَمَّا رَدَدْتَ عَلَيْهِ وَقَعَ الشَّيْطَانُ». ثُمَّ قَالَ: يَا أَبَا بَكْرٍ ثَلَاثٌ كُلُّهُنَّ حقٌّ: مَا منْ عبدٍ ظلم بمظلمة فِي غضي عَنْهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا أَعَزَّ اللَّهُ بِهَا نَصْرَهُ وَمَا فَتَحَ رَجُلٌ بَابَ عَطِيَّةٍ يُرِيدُ بِهَا صِلَةً إِلَّا زَادَ اللَّهُ بِهَا كَثْرَةً وَمَا فَتَحَ رَجُلٌ بَابَ مَسْأَلَةٍ يُرِيدُ بِهَا كَثْرَةً إِلَّا زَادَ اللَّهُ بِهَا قِلَّةً . رَوَاهُ أَحْمد
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন নবী (ﷺ) বসেছিলেন, এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি আবূ বাক্ সিদ্দীক্ব (রাঃ)-কে গালিগালাজ করতে লাগল। নবী (ﷺ) এটা শুনে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং মৃদু হাসতে লাগলেন। লোকটি যখন খুব বেশি মন্দ বকল, তখন আবূ বাক্ সিদ্দীক (রাঃ) তার কোন কথার প্রতি-উত্তর দিলেন। এতে নবী (ﷺ) খুব রাগান্বিত হলেন এবং উঠে গেলেন।আবু বাক্ সিদ্দীক্ব (রাঃ) তাঁর পিছন পিছন গেলেন এবং বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! লোকটি আমাকে মন্দ বলছিল আর আপনি বসেছিলেন। যখন আমি তার কোন কথার প্রতি-উত্তর করলাম, আপনি রাগ করে উঠে এলেন। তিনি (ﷺ) বললেন : তোমার সাথে একজন মালাক (ফেরেশতা) ছিলেন, যিনি ঐ লোকটির জবাব দিচ্ছিলেন। যখন তুমি নিজেই তার জবাব দিলে, তখন তোমাদের মাঝে শয়তান উপস্থিত হলো।তারপর তিনি (ﷺ) বললেন : হে আবূ বাক্র! তিনটি কথা আছে, সেগুলোর প্রত্যেকটি হাক্ব। প্রথমতঃ যদি কোন বান্দার ওপর জুলুম করা হয় এবং ঐ ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জুলুমের বিরুদ্ধে কোন প্রকার প্রতিবাদ না করে চুপ করে থাকে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা খুব সাহায্য করেন। দ্বিতীয়তঃ যে ব্যক্তি তার দানের দরজা খুলে দেয় এবং ঐ দানের সাহায্যে তার স্বজন-প্রতিবেশীর সাথে অনুগ্রহের ইচ্ছা পোষণ করে, আল্লাহ তা'আলা তার ধন-সম্পদ আরো বৃদ্ধি করে দেন। তৃতীয়তঃ যে ব্যক্তি ভিক্ষার দরজা খুলে দিয়ে নিজের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি করতে চায়। এতে আল্লাহ তা'আলা তার ধন-সম্পদ আরো কমিয়ে দেন।
[১] সহীহ : আহমাদ ৯৬২৪, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২২৩১, সহীহুল জামি‘ ৫৬৪৬, শু‘আবুল ইমান ৩৪১৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১০২-[৩৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ বাকর সিদ্দীক্ব (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। একজন ব্যক্তি তাকে গালিগালাজ করছিল, আর নবী (صلى الله عليه وسلم) বসে ছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) চুপ থাকলে একজন ফেরেশতা তার পক্ষ থেকে জবাব দিচ্ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি নিজেই জবাব দিলেন, তখন শায়ত্বন উপস্থিত হলো এবং নবী (صلى الله عليه وسلم) উঠে গেলেন। এই ঘটনা গালির জবাবে ধৈর্য হাদিস হিসেবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তিনটি সত্য কথা বলেন: আল্লাহর জন্য জুলুমের জবাবে চুপ থাকলে আল্লাহ সাহায্য করেন; আত্মীয়-প্রতিবেশীর উপকারের নিয়তে দান করলে সম্পদে বৃদ্ধি দেন; আর সম্পদ বাড়ানোর জন্য ভিক্ষার দরজা খুললে তা কমতির কারণ হয়। তাই এই হাদিস ধৈর্য, দান এবং লোভ থেকে বাঁচার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গালি শুনে আল্লাহর জন্য ধৈর্য রাখা বড় মর্যাদার কাজ।
- অকারণে পাল্টা জবাব দিলে শায়ত্বনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
- আত্মীয় ও প্রতিবেশীর উপকারের নিয়তে দান করা কল্যাণের কাজ।
- সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভিক্ষা করা নিন্দনীয়।
