২৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১৯২-[৩৮] - পেট ভরার ক্ষেত্রে সংযমের শিক্ষা
মন-গলানো উপদেশমালা সম্পর্কিত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
পেট ভরার ক্ষেত্রে সংযমের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫১৯২-[৩৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫১৯২-[৩৮]
وَعَن مقدامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلَاتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ فَإِنْ كَانَ لَا مَحَالَةَ فَثُلُثٌ طَعَامٌ وَثُلُثٌ شَرَابٌ وَثُلُثٌ لِنَفَسِهِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه صحیح، رواہ الترمذی (2380 وقال : حسن صحیح) و ابن ماجہ (3349) ۔ (صَحِيح)
মিক্বদাম ইবনু মা'দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, (রাসূল (ﷺ) বলেছেন) কোন ব্যক্তি তার পেট অপেক্ষা মন্দ কোন পাত্রকে ভর্তি করেনি। আদাম সন্তানের জন্য এ পরিমাণ কয়েক লোকমাই যথেষ্ট যা দ্বারা সে স্বীয় কোমরকে সোজা রাখতে পারে (ও আল্লাহর ইবাদত করতে পারে)। যদি এর বেশি খাওয়া প্রয়োজন মনে করে তবে এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য, আরেক তৃতীয়াংশ পানীয় এবং অপর তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে।
সহীহ : তিরমিযী ২৩৮০, ইবনু মাজাহ ৩৩৪৯, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২১৩৫, মুসনাদে আহমাদ ১৭২২৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৭৪, শুআবুল ঈমান ৫৬৪৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৬৭৭০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১৯২-[৩৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মানুষ তার পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। আদম সন্তানের জন্য কয়েক লোকমাই যথেষ্ট, যা দিয়ে সে কোমর সোজা রাখতে পারে। যদি এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয় এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাসের জন্য রাখবে। এই হাদিস খাদ্য সংযমের খুব সহজ নীতি শেখায়। ইসলাম খাবার নিষেধ করে না, কিন্তু অতিভোজন থেকে সতর্ক করে। শরীরকে ইবাদাতের উপযোগী রাখা দরকার; পেটকে বোঝা বানানো নয়। খাবারে ভারসাম্য রাখলে শরীর, মন ও ইবাদাতে সহজতা আসতে পারে। তাই খাওয়ার সময় প্রয়োজন, সংযম ও সচেতনতা রাখা মুমিনের জন্য ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতিভোজন থেকে বাঁচা উচিত।
- খাবার শরীরকে সচল রাখার জন্য, লোভ মেটানোর জন্য নয়।
- খাদ্য, পানীয় ও শ্বাসের জন্য ভারসাম্য রাখা দরকার।
- খাদ্য সংযম ইবাদাতে সহায়ক হতে পারে।
