২৬/১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৩৬-[৬] - বাহ্যিক মর্যাদা নয়, আসল মূল্য অন্যখানে

গরিবদের ফজিলত ও নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন - প্রথম অনুচ্ছেদ

ফাযীলাত বা মর্যাদা দ্বারা উদ্দেশ্য অতিরিক্ত সাওয়াব ও পুরস্কার। ধন-সম্পদের মাধমে অর্জিত মর্যাদার কথা বুঝানো হয়নি। নাবী (ﷺ)-এর জীবন ‘ইবাদতের ক্ষেত্রে ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং বর্ণাঢ্য। কিন্তু জীবনের সুখ-সামগ্রী ও খানাপিনায় তিনি ছিলেন দরিদ্রের মতো।

দরিদ্র মুসলিমের মূল্য: বাহ্যিক চোখে নয়, ঈমানের চোখে

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫২৩৬-[৬]

وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: مَرَّ رَجُلٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِرَجُلٍ عِنْدَهُ جَالِسٍ: «مَا رَأْيُكَ فِي هَذَا؟» فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَشْرَافِ النَّاسِ: هَذَا وَاللَّهِ حَرِيٌّ إِنْ خَطَبَ أَنْ يُنْكَحَ وَإِنْ شَفَعَ أَنْ يُشَفَّعَ.قَالَ: فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ مر على رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا رَأْيُكَ فِي هَذَا؟» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا رَجُلٌ مِنْ فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ هَذَا حَرِيٌّ إِنْ خَطَبَ أَنْ لَا ينْكح. وإِن شفع أَن لَا يُشفَع. وإِن قَالَ أَنْ لَا يُسْمَعَ لِقَوْلِهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا خَيْرٌ مِنْ مِلْءِ الْأَرْضِ مِثْلَ هَذَا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ متفق علیہ، رواہ البخاری (6447) و مسلم (لم اجدہ) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তখন তিনি তাঁর নিকটে বসা লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, এই যে লোকটি গেল, তার সম্পর্কে তোমার কী ধারণা? সে বলল, ইনি তো সম্ভ্রান্ত লোকেদের একজন। আল্লাহর শপথ! ইনি এমন যোগ্যতাসম্পন্ন লোক যে, যদি সে কোন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় তখন তার সাথে বিবাহ দেয়া হবে। আর যদি সে কারো সম্পর্কে সুপারিশ করে তখন তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (কিছুক্ষণ) নীরব রইলেন।অতঃপর আরেক ব্যক্তি অতিক্রম করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এ ব্যক্তি সম্পর্কেও তাকে) প্রশ্ন করলেন : এ লোকটি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা? জবাবে সে বলল : হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি তো দরিদ্র মুসলিমদের একজন। সে তো এরই উপযোগী যে, যদি সে কোন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় তবে তার সাথে বিবাহ দেয়া হবে না। আর যদি সে সুপারিশ করে, তাও গ্রহণ করা হবে না। আর যদি সে কথা বলে তাও শুনা হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, (তুমি যার প্রশংসা করেছ) সারা ভূপৃষ্ঠে তার মতো লোকে ভরপুর থাকলেও তাদের তুলনায় এ লোকটি উত্তম (যার তুমি দুর্নাম করেছ)।

সহীহ : বুখারী ৬৪৪৭, ইবনু মাজাহ ৪১২০, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩২০২, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৭৫০।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৩৬-[৬]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে দুজন ব্যক্তির কথা এসেছে। প্রথম ব্যক্তি সমাজে সম্ভ্রান্ত বলে মনে করা হয়—তার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য, সুপারিশ শোনা হয়। দ্বিতীয় ব্যক্তি দরিদ্র মুসলিম; তাকে এমন মনে করা হয় যে তার প্রস্তাব গ্রহণ হবে না, সুপারিশও শোনা হবে না, কথাও গুরুত্ব পাবে না। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, এই দরিদ্র ব্যক্তি সারা পৃথিবীভর্তি ঐ ধরনের লোকের চেয়েও উত্তম। হাদিসটি মানুষের মূল্যায়নের ভুল ধরিয়ে দেয়। আমরা অনেক সময় সম্পদ, সামাজিক প্রভাব, বংশ বা পরিচিতিকে মর্যাদার মাপকাঠি বানাই। কিন্তু আল্লাহর কাছে মর্যাদার বিষয় ভিন্ন। দরিদ্র, অচেনা বা কম প্রভাবশালী মানুষকে ছোট করা ইসলামের আদব নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মানুষকে সামাজিক অবস্থান দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।
  • দরিদ্র মুসলিমও আল্লাহর কাছে বড় মর্যাদাবান হতে পারে।
  • সুপারিশ বা কথার গুরুত্ব না পেলেও মানুষের আসল মূল্য কমে যায় না।
  • বাহ্যিক সম্মান সব সময় আখিরাতের মর্যাদার প্রমাণ নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন