২৬/৮. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৭৮-[৮] - নুবুওয়াতের পথে খিলাফাত

ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ

নুবুওয়াতের পদ্ধতিতে খিলাফাতের হাদিস

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩৭৮-[৮]

عَن النُّعْمَان بن بشير عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا عَاضًّا فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيَّةً فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ نُبُوَّةٍ» ثُمَّ سَكَتَ قَالَ حَبِيبٌ: فَلَمَّا قَامَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبْتُ إِلَيْهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ أُذَكِّرُهُ إِيَّاهُ وَقُلْتُ: أَرْجُو أَنْ تَكُونَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ بَعْدَ الْمُلْكِ الْعَاضِّ وَالْجَبْرِيَّةِ فَسُرَّ بِهِ وَأَعْجَبَهُ يَعْنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ. رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة» اسنادہ صحیح، رواہ احمد (4 / 273 ح 18596، و البیھقی فی دلائل النبوۃ 6 / 491)

নু'মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহ যতদিন চাইবেন ততদিন তোমাদের মাঝে নুবুওয়্যাত পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে তুলে নেবেন, তারপর আল্লাহ যতদিন চাইবেন ততদিন নুবুয়্যাতের নিয়মানুযায়ী খিলাফত থাকবে, অতঃপর এমন এক সময় তাও উঠিয়ে নেবেন। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে দংশনকারী বাদশাহী? আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী তা যতদিন থাকার থাকবে, পরে এমন সময় তাকেও উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর চেপে বসবে একনায়কত্ব, অপ্রতিরোধ্য রাজতন্ত্র। আল্লাহর ইচ্ছা যতদিন থাকার থাকবে, পরে তাকেও তুলে নেবেন। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে পুনরায় নুবুওয়্যাতের তরীকায় খিলাফত। এ পর্যন্ত বলার পর রাসূল (ﷺ) নীরব হলেন।বর্ণনাকারী হাবীব বলেন, যখন 'উমর ইবনু 'আবদুল আযীয খলীফাহ্ হলেন তখন আমি তাঁকে এ হাদীসটি লিখিয়ে পাঠালাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভবিষ্যদ্বাণীটি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলাম। অতঃপর বললাম, দংশনকারী ও একনায়কত্ববাদী রাজতন্ত্রের পর আমি মনে করি আপনিই ঐ আমীরুল মুমিনীন বা খলীফাহ্ (যার কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে গেছেন)। এতে তিনি অর্থাৎ উমর ইবনু 'আবদুল আযীয আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

সহীহ: মুসনাদে আহমাদ ১৮৪৩০, সিলসিলাতুস সহীহাহ ৫, মুসনাদে বাযযার ২৭৯৬, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ৩৭২।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৭৮-[৮]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ইসলামী শাসনধারার কয়েকটি পর্যায়ের কথা বলেছেন। আল্লাহ যতদিন চাইবেন, নুবুওয়াত থাকবে; এরপর তা তুলে নেওয়া হবে। তারপর নুবুওয়াতের পদ্ধতিতে খিলাফাত থাকবে। এরপর দংশনকারী রাজতন্ত্র, তারপর জবরদস্তিমূলক রাজতন্ত্র আসবে। আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী সেগুলোও শেষ হবে। এরপর আবার নুবুওয়াতের পদ্ধতিতে খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত হবে। এতটুকু বলার পর নবী صلى الله عليه وسلم নীরব হন। বর্ণনাকারী হাবীব বলেন, উমার ইবনু আবদুল আযীয খলীফা হলে তিনি এই হাদিস লিখে তাঁকে স্মরণ করান, আর তিনি এতে আনন্দিত হন। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ইতিহাসের পরিবর্তন আল্লাহর ইচ্ছার অধীন এবং ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব রহমতের পথ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শাসনধারার পরিবর্তন আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
  • নুবুওয়াতের পদ্ধতির খিলাফাত ন্যায় ও রহমতের সাথে যুক্ত।
  • জবরদস্তি ও কঠোর রাজত্ব স্থায়ী মানদণ্ড নয়।
  • ভালো নেতৃত্বের আশা মানুষকে দ্বীনি পথে স্থির রাখতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন