২৭/১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৪৩২-[২৩] - বাসরাহ ও বনু কনতূরার বর্ণনা

যুদ্ধবিগ্রহ সম্পর্কিত - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

বাসরাহ শহর ও বনু কনতূরার ফিতনা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৪৩২-[২৩]

وَعَن أبي بكرَة أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَنْزِلُ أُنَاسٌ مِنْ أُمَّتِي بِغَائِطٍ يُسَمُّونَهُ الْبَصْرَةَ عِنْدَ نَهْرٍ يُقَالُ لَهُ: دِجْلَةُ يَكُونُ عَلَيْهِ جِسْرٌ يَكْثُرُ أَهْلُهَا وَيَكُونُ مِنْ أَمْصَارِ الْمُسْلِمِينَ وَإِذَا كَانَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ جَاءَ بَنُو قَنْطُورَاءَ عِرَاضُ الْوُجُوهِ صِغَارُ الْأَعْيُنِ حَتَّى يَنْزِلُوا عَلَى شَطِّ النَّهْرِ فَيَتَفَرَّقُ أَهْلُهَا ثَلَاثَ فِرَقٍ فِرْقَةٌ يَأْخُذُونَ فِي أَذْنَابِ الْبَقَرِ وَالْبَرِّيَّةِ وَهَلَكُوا وَفِرْقَةٌ يَأْخُذُونَ لِأَنْفُسِهِمْ وَهَلَكُوا وَفِرْقَةٌ يَجْعَلُونَ ذَرَارِيَّهُمْ خَلْفَ ظُهُورِهِمْ وَيُقَاتِلُونَهُمْ وَهُمُ الشُّهَدَاءُ.رَوَاهُ أَبُو دَاوُد اسنادہ حسن، رواہ ابوداؤد (4306) ۔ (إِسْنَاده جيد)

আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : এক সময় আমার উম্মতের কতিপয় লোক একটি নিম্নভূমিতে অবতরণ করবে, উক্ত স্থানটিকে তারা ‘বাসরাহ্' নামে অভিহিত করবে এবং স্থানটি হবে 'দাজলাহ্' নামক একটি নদীর কাছে। নদীর উপরে একটি সেতু হবে। উক্ত স্থানটিতে অধিবাসীদের সংখ্যা হবে অত্যধিক। অবশেষে তা মুসলিমদের শহরসমূহের মাঝে অন্যতম একটি শহরে পরিগণিত হবে।অতঃপর শেষ যামানায় চওড়া মুখমণ্ডল ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চক্ষুবিশিষ্ট ‘কনতূরার’ বংশধরগণ উক্ত শহরবাসীদের বিরুদ্ধে (লড়াই করার জন্য) আসবে এবং তারা উক্ত নদীর পাড়ে এসে আস্তানা গাড়বে। (তাদেরকে দেখে) শহরবাসী তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। একভাগ গবাদি পশুর পিছনে মাঠে-ময়দানে আশ্রয় নেবে (অর্থাৎ শত্রুর মোকাবিলা এড়িয়ে পশুপালন ও ক্ষেত-খামারের কাজে আত্মনিয়োগ করবে)। ফলে তারা সকলেই ধ্বংস হবে। আর একভাগ ‘ক্বনতূরার আওলাদের' নিকট (আত্মসমর্পণ করে) নিরাপত্তা চাইবে, তারাও ধ্বংস হবে। আর অবশিষ্ট একভাগ নিজেদের সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজনকে পশ্চাতে রেখে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। তারা প্রত্যেকেই শহীদ হিসেবে গণ্য হবে।

হাসান: আবু দাউদ ৪৩০৬, সহীহুল জামি ৮১৭০।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৪৩২-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ভবিষ্যতে উম্মতের কিছু লোকের বাসরাহ নামে এক নিম্নভূমিতে বসতি স্থাপনের কথা বলেছেন। জায়গাটি দাজলা নদীর কাছে হবে, সেখানে সেতু থাকবে এবং অধিবাসী বেশি হবে। পরে এটি মুসলিম শহরগুলোর একটি শহর হিসেবে পরিচিত হবে। এরপর শেষ যামানায় চওড়া মুখমণ্ডল ও ছোট চোখবিশিষ্ট বনু কনতূরা সেই শহরের কাছে আসবে এবং নদীর পাড়ে অবস্থান নেবে। তখন শহরবাসী তিন ভাগে বিভক্ত হবে। একদল পশুপালন ও মাঠে আশ্রয় নেবে, একদল নিজেদের নিরাপত্তা চাইবে, আর একদল পরিবারকে পেছনে রেখে যুদ্ধ করবে। হাদিসে শেষ দলকে শহীদ বলা হয়েছে। এই বর্ণনা বাসরাহ, শেষ যুগের ফিতনা এবং সাহসী অবস্থানের কথা তুলে ধরে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শেষ যুগে কিছু শহর বড় ফিতনার মুখে পড়তে পারে।
  • ভয় ও নিরাপত্তার প্রশ্নে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিতে পারে।
  • পরিবারকে পেছনে রেখে যুদ্ধ করা দলকে হাদিসে শহীদ বলা হয়েছে।
  • বাসরাহ শহর শেষ যুগের আলোচনায় বিশেষভাবে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন