২৮/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৬২৪-[১৩] - জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা
জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের বিবরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা ও ঈমানের সম্মান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৬২৪-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৬২৪-[১৩]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ يَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ مِنْ فَوْقِهِمْ كَمَا تَتَرَاءَوْنَ الْكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ الْغَابِرَ فِي الْأُفُقِ مِنَ الْمَشْرِقِ أَو الْمَغْرِبِ لِتَفَاضُلِ مَا بَيْنَهُمْ» قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ تِلْكَ مَنَازِلُ الْأَنْبِيَاءِ لَا يَبْلُغُهَا غَيْرُهُمْ قَالَ: «بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ رِجَالٌ آمَنُوا باللَّهِ وصدَّقوا الْمُرْسلين». مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ ، رواہ البخاری (3256) و مسلم (11 / 2831)، (7144) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : নিশ্চয় জান্নাতবাসীগণ তাদের ঊর্ধ্বের বালাখানার অধিবাসীদেরকে এমনিভাবে দেখতে পাবে, যেমনিভাবে আকাশের পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিগন্তে তোমরা একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখতে পাও। তাদের মধ্যে মর্যাদার ব্যবধানের কারণে এরূপ হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তা তো হবে আম্বিয়ায়ে কিরামদেরই স্থান, অন্যেরা তো সেখানে পৌঁছতে পারবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না, বরং সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যে সমস্ত লোকেরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং রাসূলগণের সত্যতা স্বীকার করবে তারাও সেখানে পৌঁছতে সক্ষম হবে।
সহীহঃ বুখারী ৩২৫৬, মুসলিম ১১-(২৮৩১), তিরমিযী ২৫৫৬, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৮০৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৬২৪-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জান্নাতের মর্যাদার স্তর সম্পর্কে সুন্দর উদাহরণ এসেছে। জান্নাতবাসীরা তাদের ওপরের বালাখানার অধিবাসীদের এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমন মানুষ আকাশের পূর্ব বা পশ্চিম দিগন্তে উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখে। এর কারণ হলো জান্নাতবাসীদের মধ্যে মর্যাদার ব্যবধান থাকবে। সাহাবীগণ ভেবেছিলেন, এমন উচ্চ স্থান হয়তো শুধু নবীদের জন্য। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানালেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং রাসূলদের সত্য বলে মেনে নেয়—এমন লোকেরাও সেই মর্যাদায় পৌঁছতে পারে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা এবং ঈমানের মূল্য। এখানে কাজের বিস্তারিত আলোচনা নেই; বরং বিশ্বাস ও রাসূলদের সত্য স্বীকার করার গুরুত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে। জান্নাতের স্তর ও মর্যাদা নিয়ে এই বর্ণনা মুমিনকে ঈমান দৃঢ় রাখতে উৎসাহ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতে মর্যাদার ভিন্ন ভিন্ন স্তর থাকবে।
- উচ্চ মর্যাদার অধিবাসীদের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দেখা যাবে।
- আল্লাহর প্রতি ঈমান ও রাসূলদের সত্য স্বীকার করা বড় সম্মানের কারণ।
- জান্নাতের উচ্চ স্থান শুধু নবীদের জন্য সীমিত নয়—হাদিসে তা স্পষ্ট করা হয়েছে।
