৪/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২২-[৩৬] - শাসক সালাত দেরি করলে করণীয়
প্রথম ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাত আদায় - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
শাসক সালাত দেরি করলে মুসলিমের করণীয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬২২-[৩৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬২২-[৩৬]
وَعَنْ قَبِيصَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ مِنْ بَعْدِي يُؤَخِّرُوْنَ الصَّلَاةَ فَهِيَ لَكُمْ وَهِيَ عَلَيْهِمْ فَصَلُّوا مَعَهُمْ مَا صَلَّوْا الْقِبْلَةَ.رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ
ক্ববীসাহ্ ইবনু ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার পর তোমাদের উপর এমন সব শাসক নিযুক্ত হবে, যারা সালাতকে পিছিয়ে ফেলবে। যা তোমাদের জন্য কল্যাণ হলেও তাদের জন্য অকল্যাণ ডেকে আনবে। তাই যতদিন তারা কেবলা হিসাবে (ক্বা'বা-কে) মেনে নিবে ততদিন তাদের পিছনে তোমরা সালাত আদায় করতে থাকবে। [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৩৪, ইরওয়া ৫২৯। যদিও এর সানাদে দুর্বলতা রয়েছে কিন্তু পূর্ববর্তী হাদীসটি এর শাহিদ। তাই তা সহীহের স্তরে উন্নীত হয়েছে।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২২-[৩৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তাঁর পর এমন শাসক আসবে, যারা সালাতকে পিছিয়ে দেবে। এতে মুসল্লিদের জন্য কল্যাণ থাকবে, আর তাদের জন্য অকল্যাণ হবে। এর অর্থ হলো, কেউ যদি নিজের দায়িত্ব পালন করে, সে নিজের আমলের ফল পাবে; আর যারা সালাত দেরি করায়, তাদের দায় তাদের উপরই থাকবে। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, যতদিন তারা কিবলা হিসেবে কা‘বাকে মেনে নেয়, ততদিন তাদের পেছনে সালাত আদায় করতে থাকবে। এখানে ইমামের সালাত, কিবলা মানা এবং নিজের ইবাদত রক্ষা করার শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে। তাই এই হাদিস মানুষকে অস্থির না হয়ে সালাত ধরে রাখতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাসকের ভুলের দায় নিজের উপর নেওয়া যাবে না।
- নিজের সালাত ঠিকভাবে আদায় করাই মুমিনের দায়িত্ব।
- কিবলা মানলে তাদের পেছনে সালাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে।
- সালাত পিছিয়ে দেওয়া গুরুতর অবহেলার বিষয়।
