৪/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৩-[৩৭] - ফিতনার সময় সালাতের শিক্ষা
প্রথম ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাত আদায় - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ফিতনার সময় সালাত ও ভালো কাজে অংশ নেওয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬২৩-[৩৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬২৩-[৩৭]
وَعُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارٍ أَنَّه دَخَلَ عَلى عُثْمَانَ وَهُوَ مَحْصُورٌ فَقَالَ إِنَّكَ إمَامُ عَامَّةٍ وَنَزَلَ بِكَ مَا تَرى وَيُصَلِّي لَنَا إِمَامُ فِتْنَةٍ وَنَتَحَرَّجُ فَقَالَ الصَّلَاةُ أَحْسَنُ مَا يَعْمَلُ النَّاسُ فَإِذَا أَحْسَنَ النَّاسُ فَأَحْسِنْ مَعَهُمْ وَإِذَا أَسَاءُوا فَاجْتَنِبْ إِسَاءَتَهُمْ. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ
(তাবি'ঈ) 'উবায়দুল্লাহ ইবনু 'আদী ইবনু খিয়ার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি খলীফা 'উসমান (রাঃ) -এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তিনি নিজ ঘরে অবরুদ্ধ ছিলেন। তাঁকে তিনি বললেন, আপনিই জনগণের ইমাম। কিন্তু আপনার উপর এ বিপদ আপতিত যা আপনি দেখছেন। এ সময় বিদ্রোহী নেতা (ইবনু বিশর) আমাদের সালাতে ইমামাত করছে। এতে আমরা গুনাহ মনে করছি। তখন তিনি ['উসমান (রাঃ)] বললেন, মানুষ যেসব কাজ করে, এসবের মধ্যে সালাত হচ্ছে সর্বোত্তম। অতএব মানুষ যখন ভাল কাজ করবে, তাদের সাথে শরীক হবে। যখন মন্দ কাজ করবে, তাদের এ মন্দ কাজ হতে দূরে সরে থাকবে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৯৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৩-[৩৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দেখা যায়, খলীফা ‘উসমান (রাঃ) অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি জানতে চাইলেন, বিদ্রোহী নেতা তাদের সালাতে ইমামতি করছে, এতে তারা গুনাহ মনে করছে। ‘উসমান (রাঃ) উত্তর দিলেন, মানুষের কাজের মধ্যে সালাত সর্বোত্তম। তাই মানুষ যখন ভালো কাজ করবে, তাদের সঙ্গে ভালো কাজে শরিক হবে। আর যখন মন্দ কাজ করবে, তাদের মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকবে। এখানে ফিতনার সময় সালাত, ইমামের অবস্থা এবং ভালো-মন্দ আলাদা করে দেখার শিক্ষা আছে। হাদিসটি শেখায়, কারও মন্দ আচরণ দেখে ভালো আমল ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। বরং সালাতের মতো ভালো কাজে অংশ নেওয়া উচিত, আর মন্দ কাজে জড়ানো থেকে বাঁচতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত মানুষের ভালো কাজের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ।
- ফিতনার সময়ও ভালো আমল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
- মানুষের ভালো কাজে অংশ নেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকা দরকার।
- ইমামের অবস্থা নিয়ে অস্থির না হয়ে সালাতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
