৩০/১২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৫৬-[৬১] - আম্মার রাঃ-এর মর্যাদা

সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য - তৃতীয় অনুচ্ছেদ

আম্মার রাঃ-এর প্রতি বিদ্বেষের ভয়াবহতা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬২৫৬-[৬১]

وَعَنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ قَالَ: كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ كَلَامٌ فَأَغْلَظْتُ لَهُ فِي الْقَوْلِ فَانْطَلَقَ عَمَّارٌ يَشْكُونِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَ خَالِدٌ وَهُوَ يشكوه إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَجَعَلَ يُغْلِظُ لَهُ وَلَا يَزِيدُهُ إِلَّا غِلْظَةً وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاكِتٌ لَا يَتَكَلَّمُ فَبَكَى عَمَّارٌ وَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا تَرَاهُ؟ فَرَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَسَهُ وَقَالَ: «مَنْ عَادَى عَمَّارًا عَادَاهُ اللَّهُ وَمَنْ أَبْغَضَ عَمَّارًا أَبْغَضَهُ اللَّهُ».قَالَ خَالِدٌ: فَخَرَجْتُ فَمَا كَانَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيَّ من رضى عمار فَلَقِيته بِمَا رَضِي فَرضِي اسنادہ حسن، رواہ احمد (4 / 89 ح 16938) [و الحاکم (3 / 390 ۔ 391) و صححہ و للسند علۃ ذکرھا الذھبی و لکنھا غیر قادحۃ] ۔ (صَحِيح)

খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার আমার ও ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)-এর মাঝে বাক-বিতণ্ডা হলো। এতে আমি তাকে শক্ত কথা বললাম। তখন ‘আম্মার গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন। এমন সময় খালিদও নবী (ﷺ) এর কাছে এসে ‘আম্মার (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন খালিদ (রাঃ) তাঁকে শক্ত কথা বলতে লাগলেন এবং তাঁর কঠোরতা আরো বাড়তে লাগল। তখন নবী (ﷺ) চুপ করে ছিলেন। কোন কথা বলছিলেন না। তখন এ অবস্থায় দেখে ‘আম্মার (রাঃ) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি খালিদ-এর আচরণ দেখছেন না?এবার নবী (ﷺ) মস্তক উঠিয়ে বললেন, যে লোক ‘আম্মার-এর সাথে শত্রুতা রাখবে, আল্লাহও তার সাথে শত্রুতা রাখবেন এবং যে ব্যক্তি ‘আম্মার (রাঃ)-এর সাথে বিদ্বেষভাব পোষণ করবে, আল্লাহও তার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন। খালিদ (রাঃ) বলেন, তখনই আমি সেখান হতে বের হয়ে পড়লাম এবং যে কোনভাবে ‘আম্মার (রাঃ)-কে সন্তুষ্ট করা অপেক্ষা কোন কিছুই আমার কাছে প্রিয়তর ছিল না। অতঃপর আমি এমনভাবে তার সাথে মিলিত হলাম যাতে তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। পরিশেষে তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেলেন।

সহীহ: মুসনাদে আহমাদ ১৬৮৬০, সহীহুল জামি ৬৩৮৬, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ৩২২৫২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭০৮১, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৮২৬৯, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৫৬৭৪।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৫৬-[৬১]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রাঃ বলেন, তাঁর সঙ্গে আম্মার ইবনু ইয়াসির রাঃ-এর বাক-বিতণ্ডা হয়েছিল এবং তিনি কঠোর কথা বলেছিলেন। আম্মার রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে অভিযোগ করেন। খালিদ রাঃ-ও এসে কথা বলতে থাকেন। নবী صلى الله عليه وسلم প্রথমে চুপ ছিলেন। আম্মার রাঃ কেঁদে ফেললে নবী صلى الله عليه وسلم মাথা তুলে বলেন, যে আম্মারের সাথে শত্রুতা রাখবে, আল্লাহও তার সাথে শত্রুতা রাখবেন; যে আম্মারকে অপছন্দ করবে, আল্লাহও তার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন। এরপর খালিদ রাঃ দ্রুত আম্মার রাঃ-কে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং তিনি সন্তুষ্ট হন। এই হাদিসে সাহাবীদের মাঝে ভুল-বোঝাবুঝি হলেও দ্রুত সংশোধন, ক্ষমা চাওয়া এবং মর্যাদাবান ব্যক্তির প্রতি সম্মান রাখার শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কঠোর কথা বললে দ্রুত সংশোধন ও সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা উচিত।
  • আম্মার রাঃ-এর মর্যাদা এই বর্ণনায় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
  • বিবাদ হলে জেদ না করে সম্পর্ক ঠিক করা উত্তম।
  • নবী صلى الله عليه وسلم অন্যায় আচরণের ব্যাপারে নীরব সমর্থন দেননি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন