১/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬-[৪] - সংশয়ে ঈমানের জবাব
সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা - প্রথম অনুচ্ছেদ
وَسْوَسَةٌ (ওয়াস্ওয়াসাহ্) বলা হয় অস্পষ্ট বা গুপ্ত আওয়াজকে। কারো কারো মতে অন্তরে যেসব চিন্তার উদয় ঘটে তা-ই ওয়াস্ওয়াসাহ্, যদি সেগুলো পাপ এবং নিকৃষ্ট কাজের দিকে আহবান করে। আর যদি আল্লাহর আনুগত্যমূলক বা সন্তোষজনক চরিত্রের দিকে আহবান করে তাহলে তাকে ইলহাম বলা হয়। তবে وَسْوَسَةٌ হলো দ্বিধাযুক্ত একটি বিষয় যা কারো কাছে স্থির হয় না।
সন্দেহ এলে বলুন: আমি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৬-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৬-[৪]
وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ «لَا يَزَالُ النَّاسُ يَتَسَاءَلُونَ حَتّى يُقَالَ هذَا خَلَقَ اللّهُ الْخَلْقَ فَمَنْ خَلَقَ اللهَ؟ فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذلِكَ شَيْئًا فَلْيَقُلْ اۤمَنْتُ بِاللهِ وَرَسُوْلِه». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সব সময় মানুষ (বিভিন্ন ব্যাপারে) পরস্পর কথোপকথন করতে থাকে। পরিশেষে এ পর্যায়ে এসে পৌঁছে যে, এসব মাখলুক তো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে সৃষ্টি করেছে কে? তাই যে ব্যক্তির মনে এ জাতীয় খট্কা, সংশয়, সন্দেহের উদয় হয় সে যেন বলে উঠে, আমি আল্লাহর প্রতি ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৩৪, আবূ দাঊদ ৪৭২১, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৯৬; বুখারীতে হাদীসটি এ শব্দে নেই।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মানুষ প্রশ্ন করতে করতে এমন পর্যায়ে যাবে যে বলবে, সব সৃষ্টি তো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যে ব্যক্তির মনে এমন খটকা আসে, তাকে বলা হয়েছে: “আমি আল্লাহর প্রতি ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি।” এই হাদিসে ওয়াসওয়াসা থেকে বের হওয়ার একটি সহজ বাক্য শেখানো হয়েছে। এখানে দীর্ঘ তর্কে যাওয়ার নির্দেশ নেই; বরং ঈমানের ঘোষণা দিয়ে অন্তরকে স্থির করার শিক্ষা আছে। “আমি আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি” বাক্যটি সন্দেহের সময় মুমিনের আশ্রয় হতে পারে। এই হাদিস তাওহীদ, ঈমান, সংশয় ও শয়তানি কুমন্ত্রণার বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সৃষ্টি নিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন মানুষকে ভুল পথে নিতে পারে।
- আল্লাহ সম্পর্কে শয়তানি খটকা এলে ঈমানের ঘোষণা দেওয়া উচিত।
- সব প্রশ্নের পেছনে চলা নয়; অন্তরকে ঈমানের দিকে ফেরানো জরুরি।
- ওয়াসওয়াসার সময় সংক্ষিপ্ত ঈমানী বাক্য শান্তির কারণ হতে পারে।
