১/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৮-[৬] - শয়তানের সূক্ষ্ম প্রভাব
সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা - প্রথম অনুচ্ছেদ
وَسْوَسَةٌ (ওয়াস্ওয়াসাহ্) বলা হয় অস্পষ্ট বা গুপ্ত আওয়াজকে। কারো কারো মতে অন্তরে যেসব চিন্তার উদয় ঘটে তা-ই ওয়াস্ওয়াসাহ্, যদি সেগুলো পাপ এবং নিকৃষ্ট কাজের দিকে আহবান করে। আর যদি আল্লাহর আনুগত্যমূলক বা সন্তোষজনক চরিত্রের দিকে আহবান করে তাহলে তাকে ইলহাম বলা হয়। তবে وَسْوَسَةٌ হলো দ্বিধাযুক্ত একটি বিষয় যা কারো কাছে স্থির হয় না।
শয়তান রক্তের মতো প্রভাব ফেলতে পারে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৮-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৮-[৬]
وَعَنْ اَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : «إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الْإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : মানুষের মধ্যে শয়তান (তার) শিরা-উপশিরায় রক্তের মধ্যে বিচরণ করে থাকে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ২০৩৮, মুসলিম ২১৭৪, আবূ দাঊদ ৪৭১৯, আহমাদ ১২১৮২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৮-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, শয়তান মানুষের মধ্যে রক্ত চলাচলের মতো বিচরণ করে। হাদিসের ভাষা ছোট, কিন্তু বার্তা খুব সতর্কতামূলক। শয়তানের প্রভাব অনেক সময় প্রকাশ্যভাবে বোঝা যায় না; সে চিন্তা, রাগ, সন্দেহ, লোভ বা মন্দ ইচ্ছার পথে মানুষকে টানতে পারে। তাই “শয়তানের ওয়াসওয়াসা” ও “শয়তানের প্রভাব” বুঝে চলা দরকার। এই হাদিস মানুষকে নিজের ভেতরের অবস্থার দিকে খেয়াল করতে শেখায়। কোনো খারাপ চিন্তা বা মন্দ কাজের টান এলে তা স্বাভাবিক ভেবে মেনে না নিয়ে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মানুষ দুর্বল, আর শয়তানের কৌশল সূক্ষ্ম; তাই ঈমানী সতর্কতা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শয়তানের প্রভাব অনেক সময় সূক্ষ্মভাবে আসে।
- মন্দ চিন্তা বা রাগ এলে নিজের অন্তরকে যাচাই করা দরকার।
- আল্লাহর আশ্রয় ও সতর্কতা মুমিনের নিরাপদ পথ।
- শয়তানের কুমন্ত্রণাকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
