৪/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭০১-[১২] - কিয়ামতের দিনে সাত ছায়ার মানুষ
মসজিদ ও সালাতের স্থান - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে সালাতের স্থান সংক্রান্ত বর্ণনা এসেছে। মাসজিদ এর শাব্দিক অর্থ সাজদার স্থান, আর পরিভাষিক অর্থ সালাত আদায়ের জন্য নির্ধারিত স্থান।
কিয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়া পাবে যে সাতজন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৭০১-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৭০১-[১২]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمْ اللّهُ فِي ظِلِّه يَوْمَ لَا ظِلَّ اِلَّا ظِلُّهُ الْإِمَامُ الْعَادِلُ وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ رَبِّه وَرَجُلٌ قَلْبُه مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ حَتّى يَعُوْدَ إِلَيْهِ وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ اِمْرَاَةٌ ذَاتُ حَسَبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّىْ أَخَافُ اللّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّق بِصَدَقَةٍ فأَخْفى حَتّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُه مَا تُنْفِقُ يَمِينُه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : সাত ধরনের মানুষকে আল্লাহ তা'আলা সেই দিন (কিয়ামতের দিন) তাঁর ছায়ার নীচে আশ্রয় দিবেন যেদিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কারো ছায়া থাকবে না :(১) ন্যায়পরায়ণ শাসক,(২) সেই যুবক যে যৌবন বয়স আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে,(৩) যে ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের হয়ে এসে আবার সেখানে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত মসজিদেই তার মন পড়ে থাকে,(৪) সেই দুই ব্যক্তি যারা পরস্পরকে আল্লাহর জন্য ভালবাসে। যদি তারা একত্রিত হয় আল্লাহর জন্য হয়, আর যদি পৃথক হয় তাও আল্লাহর জন্যই হয়,(৫) সে ব্যক্তি যে একাকী অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করে আর আল্লাহর ভয়ে তার দুইচোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে,(৬) যে ব্যক্তি যাকে কোন উচ্চ বংশীয় সুন্দরী যুবতী কু-কাজ করার জন্য আহ্বান জানায়। এর উত্তরে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি,(৭) সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে গোপনে দান করে। যার বাম হাতও বলতে পারে না যে, তার ডান কী খরচ করেছে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৬০, মুসলিম ১০৩১, নাসায়ী ৫৩৮০, তিরমিযী ২৩৯১, আহমাদ ৯৬৬৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৪৮৬, ইরওয়া ৮৮৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭০১-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم কিয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়া পাওয়ার সাত ধরনের মানুষের কথা বলেছেন। যেদিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন এই আমলগুলো বিশেষ মর্যাদার কারণ হবে। এখানে ন্যায়পরায়ণ শাসক, ইবাদতে বেড়ে ওঠা যুবক, মসজিদের সঙ্গে মন জড়িয়ে থাকা মানুষ, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা রাখা দুই ব্যক্তি, একা অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে কান্না করা ব্যক্তি, পাপের ডাক এলে আল্লাহকে ভয় করে সরে থাকা ব্যক্তি এবং গোপনে দানকারী ব্যক্তির কথা এসেছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, আল্লাহভীতি শুধু মুখের কথা নয়; এটি শাসন, যৌবন, সম্পর্ক, দান, চোখের পানি ও পাপ থেকে বেঁচে থাকার মধ্যে প্রকাশ পায়। তাই কিয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়া বিষয়টি একজন মুসলিমকে নিজের আমল গোপনে ও আন্তরিকভাবে সাজাতে উৎসাহ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ন্যায়, ইবাদত ও আল্লাহভীতি কিয়ামতের দিনে মর্যাদার কারণ হতে পারে।
- যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটানো বিশেষ প্রশংসনীয় কাজ।
- আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও গোপন দান অন্তরের ইখলাসের পরিচয়।
- পাপের সুযোগ থাকলেও আল্লাহকে ভয় করে বিরত থাকা বড় শিক্ষা।
