৪/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭০২-[১৩] - জামা‘আতে সালাতের সওয়াব
মসজিদ ও সালাতের স্থান - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে সালাতের স্থান সংক্রান্ত বর্ণনা এসেছে। মাসজিদ এর শাব্দিক অর্থ সাজদার স্থান, আর পরিভাষিক অর্থ সালাত আদায়ের জন্য নির্ধারিত স্থান।
জামা‘আতে সালাতের সওয়াব ও মসজিদে অপেক্ষার ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৭০২-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৭০২-[১৩]
وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صَلَاةُ الرِّجُلِ فِى الْجَمَاعَةِ تَضَعَّفُ عَلى صَلَاتِه فِى بَيْتِه وَفِىْ سُوْقِه خَمْسًا وَّعِشْرِيْنَ ضِعْفًا وَّذلِكَ اَنَّه إِذَا تَوَضَّاَ فَاَحْسَنَ الْوُضُوْءَ ثُمَّ خَرَجَ اِلَى الْمَسْجِدِ لَا يُخْرِجُه اِلَّا الصَّلَاةُ لَمْ يَخْطُ خُطْوَةً اِلَّا رُفِعَتْ لَه بِهَا دَرَجَةٌ وَّحُطَّ عِنْهُ بِهَا خَطِيْئَةٌ فَاِذَا صَلّى لَمْ تَزَلِ الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّىْ عَلَيْهِ مَا دَامَ فِىْ مُصَلَّاهُ اَللّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ اَللّهُمَّ ارْحَمْهُ وَلَا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِىْ صَلَاةٍ مَّا انْتَظَرَ الصَّلَاةَوَفِىْ رِوَايَةٍ قَالَ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ كَانَتِ الصَّلَاةُ تَحْبِسُه وَزَادَ فِىْ دُعَاءِ الْمَلَائِكَةِ اَللّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ مَا لَمْ يُؤْذِ فِيْهِ مَا لَمْ يُحْدِثْ فِيْهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর প্রিয় রাসূল বলেছেন : ঘরে অথবা (ব্যস্ততার কারণে) কারো বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে মসজিদে জামা’আতের সাথে সালাত আদায় করার সওয়াব পঁচিশ গুণ বেশি। কারণ কোন ব্যক্তি ভাল করে (সকল আদাবের প্রতি লক্ষ্য রেখে) উযূ করে নিঃস্বার্থভাবে সালাত আদায় করার জন্যই মসজিদে আসে। তার প্রতি কদমের বদলা একটি সওয়াবে তার মর্যাদা বেড়ে যায়, আর একটি গুনাহ কমে যায়। এভাবে মসজিদে পৌঁছা পর্যন্ত (চলতে থাকে)।সালাত আদায় শেষ করে যখন সে মুসাল্লায় বসে থাকে, মালায়িকাহ অনবরত এই দোয়া করতে থাকে : ‘হে আল্লাহ! তুমি তাকে মাফ করে দাও। সে আল্লাহ! তুমি তার উপর রহমত বর্ষণ কর।’’ আর যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ সালাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, সে সময়টা তার সালাতের সময়ের মধ্যেই পরিগণিত হবে। আর এক বর্ণনার শব্দ হল, ‘যখন কেউ মসজিদে গেল। আর সালাতের জন্য অবস্থান করল সেখানে, তাহলে সে যেন সালাতেই রইল। আর মালায়িকার দোয়ার শব্দাবলী আরো বেশি : “হে আল্লাহ! এই বান্দাকে ক্ষমা করে দাও। তার তাওবাহ্ কবুল কর।” এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে অন্য কোন মুসলিমকে কষ্ট না দেয় বা তার উযূ ছুটে না যায়। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৬৪৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭০২-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামা‘আতে সালাতের সওয়াব খুব সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে। ঘরে বা বাজারে একা সালাত আদায়ের চেয়ে মসজিদে জামা‘আতের সাথে সালাত আদায়ের সওয়াব পঁচিশ গুণ বেশি বলা হয়েছে। কারণ একজন মানুষ যখন ভালোভাবে উযূ করে শুধু সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে যায়, তখন তার প্রতিটি কদমে একটি মর্যাদা বাড়ে এবং একটি গুনাহ কমে। সালাত শেষ করার পর সে যখন মুসাল্লায় বসে থাকে, মালায়িকাহ তার জন্য ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করে। আর যতক্ষণ সে পরের সালাতের অপেক্ষায় থাকে, সে সময়টিও সালাতের মধ্যে গণ্য হয়। তবে বর্ণনায় শর্ত এসেছে—সে যেন কাউকে কষ্ট না দেয় এবং তার উযূ ভঙ্গ না হয়। তাই মসজিদে সালাত শুধু কয়েক মিনিটের কাজ নয়; প্রস্তুতি, পথে হাঁটা, অপেক্ষা ও আদব—সব মিলেই এটি বড় সওয়াবের পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামা‘আতে সালাত একা সালাতের চেয়ে বেশি সওয়াবের কারণ।
- ভালোভাবে উযূ করে মসজিদে যাওয়া নিজেই নেকির পথ।
- সালাতের অপেক্ষায় বসে থাকা সময়ও সালাতের মর্যাদা পেতে পারে।
- মসজিদে কাউকে কষ্ট না দেওয়া এবং পবিত্রতা ধরে রাখা জরুরি।
