১০/৩০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৪৭ - মসজিদে যাওয়ার কদমের সওয়াব
জামাআতে সালাত আদায় করার মর্যাদা।
وَكَانَ الْأَسْوَدُ إِذَا فَاتَتْهُ الْجَمَاعَةُ ذَهَبَ إِلَى مَسْجِدٍ آخَرَ وَجَاءَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ إِلَى مَسْجِدٍ قَدْ صُلِّيَ فِيهِ فَأَذَّنَ وَأَقَامَ وَصَلَّى جَمَاعَةًজামা‘আত না পেলে আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) অন্য মসজিদে চলে যেতেন। আনাস ইবন মালিক (রাঃ) এমন এক মসজিদে গেলেন যেখানে আযান ও ইকামাত দিয়ে জামা‘আতে সালাত আদায় করলেন।"
মসজিদে গিয়ে জামাআতে সালাত: কদম, দোয়া ও অপেক্ষার ফজিলত
সহীহ বুখারী : ৬৪৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৪৭
مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ قَالَ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلاَةُ الرَّجُلِ فِي الْجَمَاعَةِ تُضَعَّفُ عَلَى صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ ضِعْفًا وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ لاَ يُخْرِجُهُ إِلاَّ الصَّلاَةُ لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلاَّ رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ فَإِذَا صَلَّى لَمْ تَزَلْ الْمَلَائِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ وَلاَ يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلاَةَ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তির জামাআতের সাথে সালাতের সওয়াব, তার নিজের ঘরে ও বাজারে আদায়কৃত সালাতের সওয়াবের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। এর কারণ এই যে, সে যখন উত্তমরূপে উযূ করলো, অতঃপর একমাত্র সালাতের উদ্দেশে মসজিদে রওয়ানা করল তখন তার প্রতি কদমের বিনিময়ে একটি মর্তবা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গুনাহ মাফ করা হয়। সালাত আদায়ের পর সে যতক্ষণ নিজ সালাতের স্থানে থাকে, ফেরেশতাগণ (ফেরেশতাগণ) তার জন্য এ বলে দোয়া করতে থাকেন- “হে আল্লাহ! আপনি তার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন।” আর তোমাদের কেউ যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতে রত বলে গণ্য হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামাআতে সালাতের ফজিলত সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, কোনো ব্যক্তির জামাআতের সালাত তার ঘরে বা বাজারে আদায় করা সালাতের চেয়ে পঁচিশ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর কারণ বলা হয়েছে। যখন সে ভালোভাবে ওজু করে শুধু সালাতের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, তখন তার প্রতিটি কদমে একটি মর্যাদা বাড়ানো হয় এবং একটি গুনাহ কমানো হয়। সালাতের পর সে যতক্ষণ নিজের সালাতের স্থানে থাকে, ফেরেশতারা তার জন্য রহমতের দোয়া করেন। আর সালাতের অপেক্ষায় থাকাও সালাতে থাকার মতো গণ্য হয়। তাই এই হাদিসে মসজিদে যাওয়া, উত্তম ওজু, জামাআত এবং অপেক্ষা—সবই একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উত্তমভাবে ওজু করে মসজিদে যাওয়া বড় ফজিলতের কাজ।
- সালাতের উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রতিটি কদমের মূল্য আছে।
- সালাতের স্থানে বসে থাকলে ফেরেশতারা দোয়া করেন।
- সালাতের অপেক্ষাও হাদিসে সালাতের সঙ্গে যুক্ত করে বলা হয়েছে।
