৪/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮০৭-[১৮] - সালাতে ২২ তাকবিরের শিক্ষা
সালাতের নিয়ম-কানুন - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে ২২ তাকবির: ইবনু আব্বাসের নির্দেশনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮০৭-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮০৭-[১৮]
وَعَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ شَيْخٍ بِمَكَّةَ فَكَبَّرَ ثِنْتَيْنِ وَعِشْرِينَ تَكْبِيرَةً فَقُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّه أَحْمَقُ فَقَالَ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ سُنَّةُ أَبِي الْقَاسِمِ ﷺ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
‘ইকরিমাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মাক্কায় এক শায়খের পিছনে (আবূ হুরায়রা) সালাত আদায় করেছি। তিনি সালাতে মোট বাইশবার তাকবির বলেন। আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর কাছে বললাম, (মনে হচ্ছে) এ লোকটি নির্বোধ। এ কথা শুনে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, এটা তো ‘আবূল কা-সিম (ﷺ) এর সুন্নাত। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭৮৮, আহমাদ ২৬৫৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮০৭-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইকরিমা বলেন, তিনি মক্কায় এক শায়খের পেছনে সালাত আদায় করেন। সেই শায়খ সালাতে মোট বাইশবার তাকবির বলেন। ইকরিমা বিষয়টি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে বলেন এবং কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে সতর্ক করে বলেন, এটি তো আবূল কাসিম (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাত। এখানে সালাতের তাকবির নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে। কোনো আমল নিজের কাছে অচেনা মনে হলে দ্রুত খারাপ মন্তব্য করা ঠিক নয়। আগে জেনে নেওয়া দরকার। এই হাদিসে সালাতে তাকবিরের গণনা, ভঙ্গি পরিবর্তনের তাকবির এবং সুন্নাতের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি এসেছে। বিশেষ করে নামাজে ওঠা-বসার তাকবিরকে অবহেলা না করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অচেনা কোনো আমল দেখলে আগে জেনে নেওয়া উচিত।
- সালাতের বিভিন্ন অবস্থায় তাকবির বলা সুন্নাত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- সাহাবীরা সুন্নাতের নামে প্রমাণিত আমলকে সম্মান করতেন।
- কারো সালাত দেখে দ্রুত কঠোর মন্তব্য করা থেকে সাবধান থাকা দরকার।
