৪/১১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮২১-[১০] - নফল সালাতের শুরুতে দোয়া
তাকবীরে তাহরিমার পর যা পড়তে হয় - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নফল সালাতের ইস্তিফতাহ দোয়ার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮২১-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮২১-[১০]
وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ إِذَا قَامَ يُصَلِّي تَطَوُّعًا قَالَ اللّهُ أَكْبَرُ وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّموتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنْ الْمُشْرِكِيْنَ وَذَكَرَ الْحَدِيْثَ مِثْلَ حَدِيْثِ جَابِرْ اِلَّا أَنَّه قَالَ وَأَنَا من الْمُسْلِمِين ثُمَّ قَالَ اللّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لَا إِلهَ اِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ وَبِحَمْدِكَ ثُمَّ يَقْرَأُ. رَوَاهُ النِّسَآئِىُّ
মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাফল সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে বলতেন, “আল্ল-হু আকবার, ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজ্হিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আর্যা হানীফাওঁ ওয়ামা আনা- মিনাল মুশ্রিকীন”- (অর্থাৎ- আল্লাহ বড় মহামহিম। আমি সে সত্তার দিকেই আমার মুখ ফিরিয়েছি যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই”।ইমাম নাসায়ী বলেন, অবশিষ্ট হাদীস তিনি (উল্লেখিত) জাবির-এর হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি পরিবর্তে বলেছেন, “আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত”। এরপর নবী (ﷺ) বলতেন, “আল্ল-হুম্মা আনতাল মালিকু, লা-ইলা-হা ইল্লা- আন্তা সুবহা-নাকা ওয়া বিহাম্দিকা”- (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমিই বাদশাহ। তুমি ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূদ নেই। তুমি পবিত্র। সব প্রশংসা তোমার জন্য।)। এরপর নবী (ﷺ) ক্বিরাআত শুরু করতেন। [১]
[১] সহীহ : নাসায়ী ৮৯৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮২১-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নফল সালাত শুরু করার সময় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যে দোয়া পড়তেন তা এসেছে। তিনি প্রথমে তাকবীর বলতেন, এরপর আল্লাহর দিকে মুখ ফেরানোর ঘোষণা দিতেন এবং বলতেন যে তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নন, বরং মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। তারপর তিনি আল্লাহকে একমাত্র মালিক বলে স্বীকার করতেন, তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসা করতেন এবং এরপর কিরাআত শুরু করতেন। এখানে সালাতের ইস্তিফতাহ দোয়ার মূল শিক্ষা হলো, নামাজ কেবল শরীরের কাজ নয়; বান্দা শুরুতেই নিজের মন, বিশ্বাস ও দিক আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেয়। নফল সালাতের দোয়া, তাকবীর এবং কুরআন তিলাওয়াতের আগে এই প্রশংসা সালাতকে বিনয়ী ও একনিষ্ঠ করে। এই কারণে সালাতে দাঁড়ানোর আগে বান্দার লক্ষ্য পরিষ্কার হওয়া জরুরি—সে কার সামনে দাঁড়াচ্ছে, কার প্রশংসা করছে এবং কার কাছে নিজেকে সঁপে দিচ্ছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নফল সালাত শুরুতে তাকবীরের পর আল্লাহর দিকে মন ফিরানো শেখানো হয়েছে।
- দোয়ার মধ্যে তাওহীদ, আল্লাহর মালিকানা ও তাঁর প্রশংসা একসাথে এসেছে।
- কিরাআতের আগে বান্দার অন্তরকে শিরকমুক্ত ও আল্লাহমুখী করা উচিত।
