৪/১২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৩০-[৯] - যুহর-আসরে মাঝারি সূরা
সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
যুহর-আসরের কিরাআত ও ফজরের দীর্ঘতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৩০-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৩০-[৯]
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ بِاللَّيْلِ إِذَا يَغْشى وََفِىْ رَوَايَةِ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الاَعْلى وَفِي الْعَصْرِ نَحْوَ ذلِكَ وَفِي الصُّبْحِ أَطْوَلَ مِنْ ذلِك.رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাতে সূরা “ওয়াল্লায়লি ইযা-ইয়াগ্শা-” এবং অপর বর্ণনা মতে “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা” পাঠ করতেন। আসরের সালাতও একইভাবে আদায় করতেন। কিন্তু ফজরের সালাতে এর চেয়ে লম্বা সূরা তিলওয়াত করতেন। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৪৫৯, নাসায়ী ৯৮০, আহমাদ ২০৯৬৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৩০-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর কিরাআতের ধরন বর্ণনা করেছেন। যুহরের সালাতে তিনি “ওয়াল্লায়লি ইযা ইয়াগশা” পড়তেন; অন্য বর্ণনায় “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ‘লা” পাঠের কথা এসেছে। আসরের সালাতেও এর কাছাকাছি কিরাআত করতেন। কিন্তু ফজরের সালাতে এর চেয়ে দীর্ঘ সূরা তিলাওয়াত করতেন। এ থেকে বোঝা যায়, প্রতিটি সালাতে কিরাআতের দৈর্ঘ্য একরকম ছিল না। যুহর ও আসরে মাঝারি ধরনের কিরাআত, আর ফজরে তুলনামূলক দীর্ঘ কিরাআতের আমল বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটি কিরাআতের ভারসাম্য শেখায়, তবে কোন সূরা সব সময় বাধ্যতামূলক—এমন কথা এতে বলা হয়নি। মুসল্লির জন্য এতে শিক্ষা আছে যে সালাতের কিরাআত সুন্দর হলেও তা মুসল্লিদের সামর্থ্য ও সালাতের ধরন অনুযায়ী ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুহর ও আসরে নির্দিষ্ট কিছু সূরা পড়ার বর্ণনা আছে।
- ফজরের কিরাআত তুলনামূলক দীর্ঘ ছিল।
- সালাতভেদে কিরাআতের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হতে পারে।
- হাদিসে আমল এসেছে, বাধ্যতামূলক তালিকা নয়।
