৪/১২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৩৭-[১৬] - কাশির কারণে রুকুতে যাওয়া
সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফজরে কিরাআত ও বাস্তব অবস্থার সহজতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৩৭-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৩৭-[১৬]
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّائِبِ قَالَ صَلّى بِنَا رَسُوْلُ الله ﷺ الصُّبْحَ بِمَكَّةَ فَاسْتَفْتَحَ سُورَةَ الْمُؤْمِنِينَ حَتّى جَاءَ ذِكْرُ مُوسى وَهَارُونَ أَوْ ذِكْرُ عِيسى أَخَذَتِ النَّبِيَّ ﷺ سَعْلَةٌ فَرَكَعَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবদুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাক্কায় আমাদের ফজরের সালাত আদায় করিয়েছেন। তিনি সূরা মু’মিনূন তিলাওয়াত করা শুরু করলেন। তিনি যখন মূসা ও হারুন অথবা ঈসা (আঃ)-এর আলোচনা পর্যন্ত এসে পৌঁছলেন তাঁর কাশি এসে গেলে (সূরা শেষ না করেই) তিনি রুকূতে চলে গেলেন। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৪৫৫, নাসায়ী ১০০৭, ইরওয়া ৩৯৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৩৭-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মাক্কায় তাঁদের ফজরের সালাত পড়িয়েছিলেন। তিনি সূরা মু’মিনুন তিলাওয়াত শুরু করেন। যখন মূসা ও হারুন, অথবা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর আলোচনা পর্যন্ত পৌঁছলেন, তখন তাঁর কাশি আসে। ফলে তিনি সূরা শেষ না করে রুকুতে চলে যান। এখানে খুব মানবিক একটি শিক্ষা আছে। সালাতে কিরাআত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বাস্তব অবস্থা দেখা হয়। নবী صلى الله عليه وسلم কাশি আসায় কিরাআত শেষ করতে থাকেননি; বরং রুকু করেছেন। তাই হাদিসটি ফজরের কিরাআত, ইমামের অবস্থা এবং সালাতে সহজতার শিক্ষা দেয়। এতে অতিরিক্ত কোনো বিধান জোর করে বের করার দরকার নেই। তাই ইমাম বা একা মুসল্লি অসুস্থতা বা কষ্টে পড়লে সালাতকে অযথা কঠিন না করে হাদিসে দেখা সহজতা মনে রাখতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم ফজরে সূরা মু’মিনুন শুরু করেছিলেন।
- কাশির কারণে সূরা শেষ না করেই রুকুতে যাওয়ার বর্ণনা আছে।
- ইমামের শারীরিক অবস্থা সালাতের কিরাআতে প্রভাব ফেলতে পারে।
- সালাতে সহজতা ও বাস্তবতা বিবেচনার শিক্ষা আছে।
