৪/১২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৬০-[৩৯] - সূরার শেষে জবাব দেওয়ার দোয়া
সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সূরা তীন, কিয়ামাহ ও মুরসালাত শেষে জবাব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৬০-[৩৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৬০-[৩৯]
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ قَرَأَ مِنْكُمْ بـ ﴿وَالتِّيْنِ وَالزَّيْتُوْنِ﴾ فَانْتَهى إِلى ﴿أَلَيْسَ اللّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِيْنَ﴾ فَلْيَقُلْ بَلى وَأَنَا عَلى ذلِكَ مِنَ الشَّاهِدِيْنَ وَمَنْ قَرَأَ ﴿لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ﴾ فَانْتَهى إِلى ﴿أَلَيْسَ ذلِكَ بِقدِرٍ عَلى أَنْ يُّحْىِيِيَ الْمَوْتى﴾ فَلْيَقُلْ بَلى وَمَنْ قَرَأَ وَالْمُرْسَلَاتِ فَبَلَغَ ﴿فَبِأَيِّ حَدِيْثٍ بَعْدَه‘ يُؤْمِنُوْنَ﴾ فَلْيَقُلْ آمَنَّا بِاللهِ.رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ إِلى قَوْلِه: (وَأَنَا عَلى ذلِكَ مِنَ الشَّاهِدِيْنَ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের যে ব্যক্তি সূরা ওয়াত তীনি ওয়াযযাইতুন পড়তে পড়তে “আলায়সাল্ল-হু বিআহকামিল হা-কিমীন” (আল্লাহ কি সবচেয়ে বড় হাকীম নন?) পর্যন্ত পৌঁছবে সে যেন বলে, “বালা- ওয়াআনা- ‘আলা- যা-লিকা মিনাশ শাহিদীন” [সূরা আততীন] (হাঁ, আমি এ কথার সাক্ষ্যদানকারীদের একজন)। আর যে ব্যক্তি সূরা ক্বিয়ামাহ পড়তে “আলায়সা যা-লিকা বিক্বা-দিরীন ‘আলা- আন্ ইউহয়িয়াল মাওতা-” (সে আল্লাহর কি এ শক্তি নেই যে, তিনি মৃতদেরকে জীবিত করে উঠাবেন), তখন সে যেন বলে, “বালা” (হাঁ, তিনি তা করতে সমর্থ)। আর যে ব্যক্তি সূরা ওয়াল মুরসালা-ত পড়তে পড়তে “ফাবি আইয়ী হাদিসিন বা’দাহু ইউমিনুন” (এরপর এরা কোন কথার উপর ঈমান আনবে?”) এ পর্যন্ত পৌঁছে সে যেন বলে, “আ-মান্না বিল্লাহ” (আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি)।আবু দাউদ, তিরমিযী এ হাদিসটিকে “শাহিদীন” পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৬০-[৩৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তিনটি সূরার নির্দিষ্ট শেষ অংশে কী বলা হবে তা শিখিয়েছেন। কেউ সূরা তীন পড়ে “আলায়সাল্লাহু বিআহকামিল হাকিমীন” পর্যন্ত পৌঁছলে বলবে, “বালা ওয়া আনা আলা যালিকা মিনাশ শাহিদীন।” কেউ সূরা কিয়ামাহ পড়ে “আলায়সা যালিকা বিকাদিরিন আলা আন ইউহয়িয়াল মাওতা” পর্যন্ত পৌঁছলে বলবে, “বালা।” আর কেউ সূরা মুরসালাত পড়ে “ফাবি আইয়ী হাদীসিন বা’দাহু ইউমিনুন” পর্যন্ত পৌঁছলে বলবে, “আমান্না বিল্লাহ।” এই হাদিসে কুরআনের প্রশ্নধর্মী আয়াতের জবাব ও ঈমানের স্বীকৃতি সুন্দরভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা তীনের শেষ অংশে সাক্ষ্যসূচক জবাব বলা শেখানো হয়েছে।
- সূরা কিয়ামাহর শেষে আল্লাহর ক্ষমতা স্বীকার করে “বালা” বলা হয়েছে।
- সূরা মুরসালাতের শেষে “আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি” বলা শেখানো হয়েছে।
- কুরআন তিলাওয়াতের সময় অর্থ বুঝে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার শিক্ষা আছে।
