৪/১২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৬৬-[৪৫] - ফরজ সালাতে মুফাসসাল
সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ফরজ সালাতে মুফাসসাল সূরার কিরাআত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৬৬-[৪৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৬৬-[৪৫]
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ مَا مِنَ الْمُفَصَّلِ سَوْرَةٌ صَغِيْرَةٌ وَلَا كَبِيْرَةٌ اِلَّا قَدْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَؤُمُّ بِهَا النَّاسَ فِى الصَّلَاةِ الْمَكْتُوْبَةِ. رَوَاهُ مَالِكٌ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে মুফাসসাল সূরার (হুজুরাত থেকে নাস পর্যন্ত) ছোট-বড় সকল সূরা দিয়েই ফারয সালাতের ইমামতি করতে শুনেছি। [১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৪১৮, বায়হাক্বী ২/৩৮৮। সবগুলো পাণ্ডুলিপিতেই মুয়াত্ত্বা মালিক-এর উদ্ধৃতি রয়েছে। আর মুল্লা ‘আলী ক্বারীও তাঁর মিরকাতে এটিই নিয়ে এসেছেন যা মূলত ভুল। কেননা ইমাম মালিক এটি আদৌ বর্ণনা করেননি। বরং এটি আবূ দাঊদ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সানাদের রাবীগণও বিশ্বস্ত ইবনু ইসহাক ব্যতীত যিনি একজন মুদাল্লিস রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৬৬-[৪৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফরজ সালাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কিরাআতের বৈচিত্র্য এসেছে। বর্ণনাকারী বলেন, মুফাসসাল সূরাগুলোর ছোট বা বড় কোনো সূরা নেই, যা দিয়ে তিনি নবীজিকে ফরজ সালাতে মানুষের ইমামতি করতে শুনেননি। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সালাতের কিরাআতে কুরআনের বিভিন্ন অংশ পড়া হয়েছে। মুফাসসাল সূরা, ফরজ সালাত, ইমামতি এবং কুরআন তিলাওয়াত—এসব বিষয় এই বর্ণনার কেন্দ্রে আছে। হাদিসটি সালাতে কিরাআতের প্রশস্ততা বুঝতে সাহায্য করে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট সালাতে সবসময় একই সূরা পড়ার নির্দেশ নয়; বরং নবীজির আমলে বৈচিত্র্য ছিল—এতটুকুই সরাসরি বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ সালাতে কুরআনের বিভিন্ন সূরা পড়ার বর্ণনা আছে।
- নবীজি صلى الله عليه وسلم ছোট ও বড় মুফাসসাল সূরা দিয়ে ইমামতি করেছেন।
- কিরাআতে বৈচিত্র্য সালাতকে কুরআনের সঙ্গে বেশি যুক্ত করে।
- হাদিসের বক্তব্যের বাইরে নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা বানানো ঠিক নয়।
