৪/১২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৬৫-[৪৪] - ধীরে ফজরের কিরাআত
সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
ফজরে ধীরে ধীরে কুরআন তিলাওয়াতের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৬৫-[৪৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৬৫-[৪৪]
وَ عَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ صَلَّيْنَا وَرَاءَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ الصُّبْحَ فَقَرَأَ فِيهمَا بِسُورَةِ يُوسُفَ وَسُورَةِ الْحَجِّ قِرَاءَةً بَطِيئَةً قِيْلَ إِذًا لَقَدْ كَانَ يَقُومُ حِينَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ قَالَ أَجَلْ. رَوَاهُ مَالِكٌ
'আমির ইবনু রবী'আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আমীরুল মু’মিনীন খলীফা উমর ফারুক (রাঃ) এর পিছনে ফাজরের সালাত আদায় করলাম। তিনি এর দুইরাকাতেই সূরা ইউসুফ ও সূরা হজ্জকে থেমে থেমে তিলাওয়াত করেছেন। কেউ আমিরকে জিজ্ঞেস করল যে, খলীফা উমর (রাঃ) ফাজরের ওয়াক্ত শুরু হবার সাথে সাথেই কি সালাত আদায়ে দাঁড়িয়ে যেতেন? উত্তরে আমির বলেন, হাঁ। [১]
[১] সহীহ : মুয়াত্ত্বা মালিক ৩৪, বায়হাক্বী ২/৩৮৯। হাদীসের রাবী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমির ইবনু রবী‘আহ্ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে জন্মগ্রহণ করে ৮৩ হিঃতে মৃত্যুবরণ করেন। আবূ যুরআহ্ সহ আরো অনেকে তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন। বুখারী মুসলিম (রহঃ) তার হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তবে তার পিতা ‘আমির ইবনু রবী‘আহ্ একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৬৫-[৪৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আমীরুল মুমিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর পেছনে ফজরের সালাত আদায়ের কথা এসেছে। তিনি দুই রাকাতে সূরা ইউসুফ ও সূরা হজ্জ ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করেছেন। পরে প্রশ্ন করা হলে জানা যায়, তিনি ফজরের সময় শুরু হলেই সালাতে দাঁড়াতেন। এখানে দুটি বিষয় স্পষ্ট: ফজরের সালাতে দীর্ঘ ও ধীর কিরাআত, এবং সময় শুরু হলে সালাতের প্রতি আগ্রহ। তবে বর্ণনাটি থেকে সবার জন্য একই পরিমাণ পড়া বাধ্যতামূলক বলা যায় না। বরং ফজরের সালাতে কুরআন তিলাওয়াতের সৌন্দর্য, সময়ের গুরুত্ব এবং মনোযোগীভাবে পড়ার একটি সুন্দর ছবি পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের সময় শুরু হলে সালাতের প্রতি যত্ন নেওয়া ভালো আমল।
- ধীরে তিলাওয়াত করলে কুরআন শোনা ও বোঝার সুযোগ বাড়ে।
- সাহাবীদের সালাতে কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক দেখা যায়।
- ইমামের কিরাআত যেন মনোযোগ ও স্থিরতার সঙ্গে হয়।
