৪/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৮৬-[৯] - সালাতে হা করে মুখ না খোলার আদব
সালাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়েজ ও যে সব কাজ করা জায়েজ - প্রথম অনুচ্ছেদ
সালাতে হাই এলে মুখ খোলা থেকে বাঁচুন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৯৮৬-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৯৮৬-[৯]
وَفِي رِوَايَةِ الْبُخَارِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلَاةِ فَلْيَكْظِمْ مَا اسْتَطَاعَ وَلَا يَقُلْ: هَا فَإِنَّمَا ذلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ يَضْحَك ُمِنْهُ
ইমাম বুখারীর এক বর্ণনায় আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কারও সালাতের মধ্যে ‘হাই’ আসে, তখন সে যেন স্বীয়শক্তি অনুযায়ী তা প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করে এবং ‘হা’ করে মুখ খুলে না দেয়। নিশ্চয়, এটা শয়তানের পক্ষ হতেই হয়ে থাকে, শয়তান তাতে হাসে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬২২৬; তবে তাতে صلاة শব্দের উল্লেখ নেই।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৮৬-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সালাতে হাই আসার সময় আরও একটি স্পষ্ট আদব শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, সালাতের মধ্যে কারো হাই এলে সে যেন নিজের শক্তি অনুযায়ী তা প্রতিরোধের চেষ্টা করে এবং ‘হা’ করে মুখ খুলে না দেয়। কারণ এটি শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে এবং শয়তান এতে হাসে। হাদিসের শিক্ষা খুব সরল: সালাতের ভেতরে নিজের শরীর ও মুখের আচরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। হাই আসলে মানুষ কখনো অসতর্ক হয়ে বড় করে মুখ খুলে ফেলে; এই হাদিস সেই অসতর্কতা থেকে বাঁচতে বলে। এখানে বান্দার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করার কথা আছে, তাই এটি সচেতনতা ও আদবের নির্দেশ। সালাতে হাই তোলা যেন মনোযোগ নষ্ট না করে, সে বিষয়ে মুমিনকে সতর্ক থাকতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে হাই এলে শক্তি অনুযায়ী তা আটকে রাখার চেষ্টা করা দরকার।
- ‘হা’ করে মুখ খুলে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- সালাতের ভেতরে শয়তানের উপহাসের কারণ হতে পারে—এমন কাজ এড়িয়ে চলা উচিত।
