৪/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৯৯-[২২] - সালাতে শয়তানের বিঘ্নের সতর্কতা
সালাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়েজ ও যে সব কাজ করা জায়েজ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে শয়তানের বিঘ্ন সম্পর্কে সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৯৯৯-[২২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৯৯৯-[২২]
وَعَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه رَفَعَه قَالَ: الْعُطَاسُ وَالنُّعَاسُ وَالتَّثَاؤُبُ فِي الصَّلَاةِ وَالْحَيْضُ وَالْقَيْءُ وَالرُّعَافُ مِنَ الشَّيْطَانِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
আদী ইবনু সাবিত (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের মাঝে হাঁচি আসা, তন্দ্রা আসা, হাই তোলা, মাসিক হওয়া, বমি হওয়া, নাক দিয়ে রক্ত নির্গত হওয়া শয়তান কর্তৃক আয়োজিত হয়। (তিরমিযী) [১]
[১] দুর্বল : আত্ তিরমিযী ২৭৪৮, য‘ঈফ আল জামি‘ ৩৮৬৫। কারণ এর সানাদে দু’টি ত্রুটি রয়েছে। প্রথমতঃ সাবিত অপরিচিত বর্ণনাকারী। দ্বিতীয়তঃ শরীক বিন ‘আবদুল্লাহ আল ক্বাযী দুর্বল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৯৯-[২২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের মধ্যে কিছু ঘটনার কথা একসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, সালাতের মাঝে হাঁচি আসা, তন্দ্রা আসা, হাই তোলা, মাসিক হওয়া, বমি হওয়া এবং নাক দিয়ে রক্ত নির্গত হওয়া শয়তানের পক্ষ থেকে আয়োজিত হয়। এখানে ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার, কারণ হাদিসের ভাষা অনুযায়ী শুধু বর্ণিত বিষয়গুলোই বলা যায়; এর বাইরে চিকিৎসা বা শরীরের আলাদা ব্যাখ্যা যোগ করা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, সালাতের সময় শয়তানের বিঘ্ন হতে পারে এবং বান্দাকে যতটা সম্ভব সচেতন থাকতে হবে। হাই ও তন্দ্রার মতো অবস্থায় মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। তাই সালাতের প্রস্তুতি, দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ, শরীরের সংযম এবং আল্লাহর স্মরণে থাকা দরকার। এই হাদিস মুমিনকে বলে, সালাতকে হালকা করে নয়, সতর্ক মন নিয়ে আদায় করতে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে বিভিন্ন ধরনের বিঘ্ন আসতে পারে—এ বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
- হাই, তন্দ্রা ও অন্য অবস্থায় সালাতের মনোযোগ রক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত।
- হাদিসে যা এসেছে, ব্যাখ্যায় তার বাইরে অতিরিক্ত দাবি না করা নিরাপদ।
