৪/৪৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১০০৬ - সুতরা, আজান ও সফরের সালাত
সলাত আদায়কারীর সামনে সুত্রাহ্ (আড়াল) দেয়া
সুতরা, আজান ও সফরের সালাত: মক্কায় নবীজির আমলের বর্ণনা
সহীহ মুসলিম : ১০০৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১০০৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ،قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ بِمَكَّةَ وَهُوَ بِالأَبْطَحِ فِي قُبَّةٍ لَهُ حَمْرَاءَ مِنْ أَدَمٍ - قَالَ - فَخَرَجَ بِلاَلٌ بِوَضُوئِهِ فَمِنْ نَائِلٍ وَنَاضِحٍ - قَالَ - فَخَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ سَاقَيْهِ - قَالَ - فَتَوَضَّأَ وَأَذَّنَ بِلاَلٌ - قَالَ - فَجَعَلْتُ أَتَتَبَّعُ فَاهُ هَا هُنَا وَهَا هُنَا - يَقُولُ يَمِينًا وَشِمَالاً - يَقُولُ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ - قَالَ - ثُمَّ رُكِزَتْ لَهُ عَنَزَةٌ فَتَقَدَّمَ فَصَلَّى الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ يَمُرُّ بَيْنْ يَدَيْهِ الْحِمَارُ وَالْكَلْبُ لاَ يُمْنَعُ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ لَمْ يَزَلْ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَدِينَةِ .
‘আওন ইবনু আবূ জুহাইফাহ্ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
আমি মাক্কায় নবী (ﷺ) -এর কাছে আসলাম। তিনি তখন আব্তাহ (মুহাসসাব) নামক স্থানে লাল চামড়ার তৈরি একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। রাবী বলেন, বিলাল (রাঃ) তাঁর ওজুর পানি নিয়ে আসলেন। কেউ পানি পেল, কেউ পেল না- সে অন্যের কাছ থেকে সামান্য নিয়ে নিল।[১০৭]নবী (ﷺ) বের হয়ে আসলেন। তাঁর গায়ে লাল রং এর চাদর শোভা পাচ্ছিল। আমি যেন তাঁর পায়ের গোছার শুভ্রতা এখনো দেখতে পাচ্ছি। তিনি ওজু করলেন এবং বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। আমি তাঁর (বিলালের) অনুসরণ করে এদিকে-ওদিক মুখ ঘুরাতে লাগলাম। সে ডানে বাঁয়ে মুখ ঘুরিয়ে “হাইয়্যা ‘আলাস সলাহ” ও “হাইয়্যা ‘আলাল ফালাহ” বলল।রাবী বলেন, অতঃপর একটি বর্শা দাঁড় করিয়ে পুঁতে দেয়া হলো। তিনি সামনে অগ্রসর হয়ে যুহরের দু’রাক’আত (ফরজ) সালাত আদায় করলেন। তাঁর (সুত্রার) সামনে দিয়ে গাধা, কুকুর ইত্যাদি যাচ্ছিল কিন্তু তিনি বাধা দিলেন না। অতঃপর তিনি ‘আস্রের ফরজ সালাত ও দু’রাক’আত পড়লেন। মাদীনা য় ফিরে আসার সময় পর্যন্ত তিনি এভাবে দু’রাক’আত করে সালাত আদায় করেছেন।
[১০৭]নবী (ﷺ) -এর ওজুর ব্যবহার করা পানি সাহাবীগণ বারাকাত স্বরূপ ব্যবহার করতেন। সেটারই প্রতিযোগিতা ছিল এটা।ই.ফা. ১০০০, ই.সে. ১০১১
সহীহ মুসলিম হাদিস ১০০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুহাইফা (রাঃ) মক্কায় নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। নবীজি আবতাহ নামক স্থানে লাল চামড়ার তাঁবুতে ছিলেন। বিলাল (রাঃ) তাঁর ওজুর পানি আনলেন। এরপর নবীজি বের হলেন, ওজু করলেন এবং বিলাল (রাঃ) আজান দিলেন। আজানের সময় তিনি ডানে-বাঁয়ে মুখ ঘুরিয়ে “হাইয়া আলাস সালাহ” ও “হাইয়া আলাল ফালাহ” বললেন। তারপর নবীজির সামনে একটি বর্শা পুঁতে দেওয়া হলো। তিনি যুহরের দুই রাকাত এবং পরে আসরের দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। সুতরার সামনে দিয়ে গাধা ও কুকুর যাচ্ছিল, কিন্তু তিনি বাধা দিলেন না। মাদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি দুই রাকাত করে সালাত আদায় করেছেন। এই হাদিস “সফরের সালাত”, “সালাতে সুতরা” এবং “আজানে মুখ ঘুরানো” বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিলাল (রাঃ) আজানের সময় ডানে-বাঁয়ে মুখ ঘুরিয়ে ডাক দিয়েছেন।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে বর্শা সুতরা হিসেবে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল।
- সুতরা থাকার পর সামনে দিয়ে গাধা ও কুকুর গেলেও তিনি বাধা দেননি।
- বর্ণনায় সফরে দুই রাকাত করে সালাত আদায়ের কথা এসেছে।
