৫/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১০৮৮ - সালাতে সালামের জবাবের শিক্ষা
সলাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ
সালাতে সালামের জবাব: সালাতের ব্যস্ততা ও আদব
সহীহ মুসলিম : ১০৮৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১০৮৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ - قَالُوا حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نُسَلِّمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَيَرُدُّ عَلَيْنَا فَلَمَّا رَجَعْنَا مِنْ عِنْدِ النَّجَاشِي سَلَّمْنَا عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْنَا فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كُنَّا نُسَلِّمُ عَلَيْكَ فِي الصَّلاَةِ فَتَرُدُّ عَلَيْنَا . فَقَالَ " إِنَّ فِي الصَّلاَةِ شُغُلاً " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতেন সে অবস্থায় আমরা তাঁকে সালাম দিলে তিনি (ﷺ) তার জবাব দিতেন কিন্তু (হাবশায় হিজরতের পর) নাজাশীর কাছ থেকে আমরা ফিরে এসে তাঁকে (সালাতরত অবস্থায়) সালাম দিলে তিনি জবাব দিলেন না। তখন (সালাত শেষে) আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সালাত আদায় করতেন এমন অবস্থায় আমরা আপনাকে সালাম দিলে তার জবাব দিতেন। (কিন্তু আজকে আমাদের সালামের জবাব দিলেন না!) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সালাতের মধ্যে নির্ধারিত করণীয় থাকে।
[৫] ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ সালাতরত অবস্থায় শব্দ বিনিময়ে সালামের জবাব দান নিষিদ্ধ, তবে ইশারা দ্বারা জবাব দান নিষিদ্ধ নয়; বরং মুস্তাহাব। জাবির (রাঃ) -এর হাদীসে এর সাবিত রয়েছে। (শারহে মুসলিম-১ম খণ্ড ২০৪ পৃষ্ঠা)ই.ফা. ১০৮২, ই.সে. ১০৯০
সহীহ মুসলিম হাদিস ১০৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আগে তাঁরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে সালাতরত অবস্থায় সালাম দিলে তিনি জবাব দিতেন। পরে তাঁরা নাজাশীর কাছ থেকে ফিরে এসে সালাম দিলে তিনি জবাব দিলেন না। সালাত শেষ হলে তাঁরা এর কারণ জানতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, “সালাতের মধ্যে নির্ধারিত করণীয় থাকে।” এই কথার মূল শিক্ষা হলো, সালাত শুধু দাঁড়ানো বা কিছু বাক্য পড়ার নাম নয়; এতে মনোযোগ, নির্দিষ্ট আমল এবং আল্লাহর সামনে আদব বজায় রাখা জরুরি। সালাতে সালামের জবাব নিয়ে এই বর্ণনা আমাদের শেখায় যে সালাতের সময় সাধারণ কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা উচিত। সালাতের কাজ সালাতের মধ্যেই সীমিত রাখা—এটাই এখানে মূল বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের সময় মনোযোগ ও নির্ধারিত কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
- সালাতরত ব্যক্তিকে কথা বলার অবস্থায় মনে করা ঠিক নয়।
- সালামের মতো ভালো কাজের জবাবও সালাতের নিয়মের অধীন।
- সালাত শেষ হলে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে।
