৫/১০. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১১০৩ - নবীর মিম্বারে সালাত শেখানোর শিক্ষা

সলাতে প্রয়োজনবশতঃ দু’ এক কদম চলা যায়

নবীর মিম্বার ও সালাত শিক্ষা: অনুসরণ করে শেখার হাদিস

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১১০৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ نَفَرًا، جَاءُوا إِلَى سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَدْ تَمَارَوْا فِي الْمِنْبَرِ مِنْ أَىِّ عُودٍ هُوَ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْرِفُ مِنْ أَىِّ عُودٍ هُوَ وَمَنْ عَمِلَهُ وَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَوَّلَ يَوْمٍ جَلَسَ عَلَيْهِ - قَالَ - فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَا عَبَّاسٍ فَحَدِّثْنَا . قَالَ أَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِلَى امْرَأَةٍ قَالَ أَبُو حَازِمٍ إِنَّهُ لَيُسَمِّيهَا يَوْمَئِذٍ «انْظُرِي غُلاَمَكِ النَّجَّارَ يَعْمَلْ لِي أَعْوَادًا أُكَلِّمُ النَّاسَ عَلَيْهَا» . فَعَمِلَ هَذِهِ الثَّلاَثَ دَرَجَاتٍ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَوُضِعَتْ هَذَا الْمَوْضِعَ فَهْىَ مِنْ طَرْفَاءِ الْغَابَةِ. وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَامَ عَلَيْهِ فَكَبَّرَ وَكَبَّرَ النَّاسُ وَرَاءَهُ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ رَفَعَ فَنَزَلَ الْقَهْقَرَى حَتَّى سَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ ثُمَّ عَادَ حَتَّى فَرَغَ مِنْ آخِرِ صَلاَتِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " يَا أُيُّهَا النَّاسُ إِنِّي صَنَعْتُ هَذَا لِتَأْتَمُّوا بِي وَلِتَعَلَّمُوا صَلاَتِي» .

আবূ হাযিম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

সাহ্‌ল ইবনু সা’দ-এর কাছে একদল লোক আসল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর মিম্বার কী কাঠের তৈরি তা নিয়ে ঝগড়া করতে শুরু করল। তখন সাহ্‌ল ইবনু সা’দ বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছিঃ মিম্বার কী কাঠের তৈরি ছিল এবং কে তা তৈরি করেছিল। তা আমি জানি। আর প্রথম যেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত মিম্বারের উপর বসেছিলেন সেদিন আমি তাঁকে দেখেছিলাম।আবূ হাযিম বলেন, আমি তখন তাঁকে বললামঃ হে আবূ ‘আব্বাস (সাহল ইবনু সা’দ)! বিষয়টি আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন একজন মহিলাকে বলে পাঠালেন যে, তোমার কাঠ-মিস্ত্রি গোলামকে বল সে আমাকে কিছু কাষ্ঠ-অর্থাৎ কাষ্ঠ-নির্মিত আসন তৈরি করে দিক। এর উপরে উঠে আমি মানুষের সামনে বক্তব্য পেশ করব। সে সময় আবূ হাযিম উক্ত মহিলার নামও উল্লেখ করেছিলেন। সুতরাং ঐ মহিলার গোলাম এ তিন স্তর বিশিষ্ট মিম্বারটি তৈরি করে দিয়েছিল | আসনটি ছিল (মাদীনার) গাবাহ্‌ নামক বনের বন্য- ঝাউ কাঠ দিয়ে তৈরি।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলে তা এ স্থানে (মসজিদে) স্থাপন করা হলো। সাহল্‌ ইবনু সা’দ বলেনঃ আমি দেখলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - এর উপর উঠে দাঁড়ালেন এবং তাকবির বললেন সালাতের জন্য। তাঁর সাথে সাথে লোকেরাও তাকবির বলল। এ সময় তিনি মিম্বার এর উপর ছিলেন। এরপর তিনি রুকু’ থেকে মাথা উঠালেন এবং পিছনের দিকে হেঁটে মিম্বার থেকে নামলেন এবং মিম্বারের গোড়াতেই (পাশেই) সাজদাহ্ করলেন। এরপর আবার গিয়ে মিম্বারে উঠলেন এবং এভাবে সালাত শেষ করে লোকদের দিকে ঘুরে বললেনঃ হে লোকজন; আমি এরূপ এজন্য করলাম যাতে তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পারো এবং আমি কিভাবে সালাত আদায় করি তা শিখে নিতে পার।

ই.ফা. ১০৯৭, ই.সে. ১১০৫

সহীহ মুসলিম হাদিস ১১০৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মিম্বার সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন। মিম্বারটি এক মহিলার কাঠমিস্ত্রি গোলাম তৈরি করেছিলেন এবং তা তিন স্তর বিশিষ্ট ছিল। পরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মিম্বারে দাঁড়িয়ে তাকবির বলেন, লোকেরাও তাঁর সাথে তাকবির বলে। তিনি মিম্বরের ওপর থেকেই রুকু করেন, তারপর পিছনের দিকে নেমে মিম্বারের গোড়ায় সিজদা করেন। এভাবে সালাত শেষ করে তিনি বলেন, তিনি এমন করেছেন যাতে লোকেরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারে এবং তাঁর সালাত শেখে। এই হাদিসে “নবীর সালাত শেখা” বিষয়টি সরাসরি এসেছে। শিক্ষা দেওয়ার জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم) বাস্তবভাবে কাজ করে দেখিয়েছেন, যাতে মানুষ দেখে বুঝতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم মানুষকে সালাত শেখানোর জন্য কাজ করে দেখিয়েছেন।
  • মিম্বার ব্যবহার করে লোকদের সামনে সালাতের পদ্ধতি পরিষ্কার করা হয়েছে।
  • সাহাবিরা নবী صلى الله عليه وسلم-কে দেখে সালাত শিখেছেন।
  • শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব দেখানো অনেক উপকারী হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন