১/২৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১১৬ - ইবাদত করেও মুনাফিকির ভয়
মুনাফিকের স্বভাব
সালাত-রোজার পরও চরিত্র যাচাই: মুনাফিকির তিন চিহ্ন
সহীহ মুসলিম : ১১৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১১৬
حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ أَبُو زُكَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْعَلاَءَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يُحَدِّثُ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ " .
‘আলা ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি উপরোক্ত সানাদে ইবনু ‘আবদুর রহমান থেকে শুনেছি। তিনি বলেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি- যদিও সে সাওম পালন করে এবং সালাত আদায় করে এবং মনে করে যে, সে মুসলিম।
ই.ফা. ১১৭; ই.সে. ১২১
সহীহ মুসলিম হাদিস ১১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি—যদিও সে রোজা রাখে, সালাত আদায় করে এবং মনে করে যে সে মুসলিম। অর্থাৎ বাহ্যিক ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার সঙ্গে সত্যবাদিতা, ওয়াদা রক্ষা এবং আমানতদারির মতো চরিত্রও জরুরি। হাদিসটি কাউকে ছোট করার জন্য নয়; বরং নিজের ভেতর দেখার জন্য। একজন মানুষ নামাজ পড়ে, রোজা রাখে—তবু যদি কথায় মিথ্যা, ওয়াদায় ভঙ্গ এবং আমানতে খিয়ানত থাকে, তাহলে সে বড় বিপদের দিকে যাচ্ছে। তাই মুনাফিকির আলামত থেকে বাঁচতে ইবাদতের সঙ্গে আচরণও ঠিক করতে হবে। সত্য, বিশ্বস্ততা ও দায়িত্ববোধ ঈমানী জীবনের বড় অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত ও রোজার সঙ্গে ভালো চরিত্রও দরকার।
- মুনাফিকির আলামত থাকলে নিজেকে সংশোধন করতে হবে।
- মিথ্যা, ওয়াদা ভঙ্গ ও খিয়ানত থেকে দূরে থাকা জরুরি।
- নিজেকে মুসলিম ভাবলেই যথেষ্ট নয়; আচরণও ঠিক হওয়া দরকার।
