৫/২৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১২৪৪ - সালাতে পবিত্র প্রশংসার বাক্য
তাকবীরে তাহ্রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করবে
সালাতে ‘হামদান কাসীরান’ বলার ফজিলত
সহীহ মুসলিম : ১২৪৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১২৪৪
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ، وَثَابِتٌ، وَحُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ فَدَخَلَ الصَّفَّ وَقَدْ حَفَزَهُ النَّفَسُ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ . فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ صَلاَتَهُ قَالَ " أَيُّكُمُ الْمُتَكَلِّمُ بِالْكَلِمَاتِ» . فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ " أَيُّكُمُ الْمُتَكَلِّمُ بِهَا فَإِنَّهُ لَمْ يَقُلْ بَأْسًا» . فَقَالَ رَجُلٌ جِئْتُ وَقَدْ حَفَزَنِي النَّفَسُ فَقُلْتُهَا . فَقَالَ «لَقَدْ رَأَيْتُ اثْنَىْ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا» .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক ব্যক্তি এসে সালাতের ক্বাতারে ঢুকে পড়ল। তখন সে হাঁপাতে ছিল। এ অবস্থায় সে বলে উঠল- “আল হাম্দুলিল্লা-হি হামদান্ কাসীরান ত্বইয়্যিবাম্ মুবা-রকান ফীহ” (অর্থাৎ- সব প্রশংসাই মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। তাঁর অনেক অনেক প্রশংসা যা পবিত্র কল্যাণময়।)সালাত শেষ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ কথাগুলো কে বলেছ? তখন সবাই চুপ করে রইল। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ ঐ কথাগুলো যে বলেছে সে তো কোন খারাপ কথা বলেনি। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলঃ আমি এসে যখন সালাতে শরীক হই তখন আমি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তাই আমি এ কথাগুলো বলেছি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি দেখলাম, বারোজন মালায়িকাহ্ ঐ কথাগুলোকে আগে উঠিয়ে নেয়ার জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে।
ই.ফা.১২৩২, ই.সে.১২৪৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ১২৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি সালাতের কাতারে ঢুকলেন, তখন তিনি হাঁপাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: “আল হামদুলিল্লাহি হামদান কাসীরান ত্বইয়্যিবান মুবারাকান ফীহি”—অর্থাৎ, সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা অনেক, পবিত্র ও বরকতময়। সালাত শেষ হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জিজ্ঞেস করলেন, কথাগুলো কে বলেছে? সবাই চুপ থাকলে তিনি বললেন, যে বলেছে সে খারাপ কিছু বলেনি। পরে লোকটি জানালেন, হাঁপাতে হাঁপাতে সালাতে শরীক হয়ে তিনি কথাগুলো বলেছেন। তখন রাসূল صلى الله عليه وسلم বললেন, তিনি দেখেছেন বারোজন ফেরেশতা কথাগুলো আগে উঠিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করছে। এই হাদিসে সালাতের ভেতরে আল্লাহর প্রশংসার একটি সুন্দর বাক্যের মর্যাদা এসেছে, তবে বর্ণনার সীমার বাইরে বাড়তি দাবি করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা সালাতের ভেতরে মর্যাদাপূর্ণ বাক্য হতে পারে।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم কথাটি খারাপ বলেননি বলে স্পষ্ট করেছেন।
- হাদিসে বারোজন ফেরেশতার আগ্রহের কথা সরাসরি এসেছে।
- সালাতে বলা বাক্য সম্পর্কে জানতে সাহাবিরা রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশের অপেক্ষা করতেন।
