৫/৪০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৪৮ - নবীজির পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়
ফজরের সলাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ
নবীজির সালাতের সময়সূচি সম্পর্কে হাদিস
সহীহ মুসলিম : ১৩৪৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩৪৮
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي سَيَّارُ بْنُ سَلاَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَسْأَلُ أَبَا بَرْزَةَ، عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ ﷺ - قَالَ - قُلْتُ آنْتَ سَمِعْتَهُ قَالَ فَقَالَ كَأَنَّمَا أَسْمَعُكَ السَّاعَةَ - قَالَ - سَمِعْتُ أَبِي يَسْأَلُهُ عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ كَانَ لاَ يُبَالِي بَعْضَ تَأْخِيرِهَا - قَالَ يَعْنِي الْعِشَاءَ - إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَلاَ يُحِبُّ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَلاَ الْحَدِيثَ بَعْدَهَا .قَالَ شُعْبَةُ ثُمَّ لَقِيتُهُ بَعْدُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ وَكَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَالْعَصْرَ يَذْهَبُ الرَّجُلُ إِلَى أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ - قَالَ - وَالْمَغْرِبَ لاَ أَدْرِي أَىَّ حِينٍ ذَكَرَ . قَالَ ثُمَّ لَقِيتُهُ بَعْدُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ وَكَانَ يُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ الرَّجُلُ فَيَنْظُرُ إِلَى وَجْهِ جَلِيسِهِ الَّذِي يَعْرِفُ فَيَعْرِفُهُ . قَالَ وَكَانَ يَقْرَأُ فِيهَا بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ .
সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি শুনেছি আমার পিতা সালামাহ্ আবূ বারযাহ্-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি নিজে কি জিজ্ঞেস করতে শুনেছ? এ কথা শুনে সাইয়্যার বললেনঃ হ্যাঁ। আমার মনে হচ্ছে যেন আমি এখনই জিজ্ঞেস করতে শুনছি। সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ আমি শুনলাম আমার পিতা তাকে (আবূ বারযাহ্) রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে আবূ বারযাহ্ বললেন- ‘ইশার সালাত আদায় করতে রাত দ্বি-প্রহর পর্যন্ত দেরী করতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মোটেই দ্বিধা করতেন না। তবে ইশার সালাত আদায় না করে ঘুমানো এবং ইশার সালাতের পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না।শু’বাহ্ বলেন, পরে এক সময়ে আবার আমি সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়লেই যুহরের সালাত আদায় করতেন। আর আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সালাত শেষ করে মাদীনার শহরতলীর দূরবর্তীস্থানে গিয়ে পৌছার পরও সূর্যের তেজ থাকত। এরপর সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ মাগরিবের সালাত কোন সময় তিনি আদায় করার কথা তিনি বলে ছিলেন তা আমি মনে করতে পারছি না।সালামাহ্ বলেছেনঃ পরে আবার এক সময় আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করে আমি তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সালাতের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি ফাজরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সালাত শেষে লোকজন তার পাশের পরিচিত লোকের দিকে তাকিয়ে তাকে চিনতে পারত। আবূ বারযাহ্ আরো বলেছেন, ফাজরের সালাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ষাট থেকে একশ’ পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করতেন।
ই.ফা.১৩৩৫, ই.সে.১৩৪৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু বরজাহ (রাঃ)-এর বর্ণনায় রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সালাতের সময়ের একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যায়। তিনি ইশার সালাত কিছুটা দেরি করে রাতের মাঝামাঝি পর্যন্ত আদায় করতে দ্বিধা করতেন না। তবে ইশার আগে ঘুমানো এবং ইশার পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। যুহরের সালাত সূর্য ঢলে পড়লে আদায় করতেন। আসরের সালাত এমন সময় পড়তেন যে, মানুষ মাদীনার দূর জায়গায় পৌঁছার পরও সূর্যের আলো ও তেজ থাকত। ফজরের সালাত শেষে মানুষ পাশের পরিচিত ব্যক্তিকে চিনতে পারত। ফজরে তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন। এই হাদিস সালাতের সময়, ইশার সালাত, ফজরের তিলাওয়াত এবং নবীজির নামাজের নিয়ম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইশার সালাতের আগে অকারণে ঘুমানো অপছন্দনীয় বিষয় হিসেবে এসেছে।
- ইশার পরে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা এড়িয়ে চলার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- ফজরের সালাতে কোরআন তিলাওয়াতের বিশেষ গুরুত্ব বোঝা যায়।
- নবীজি صلى الله عليه وسلم প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাত নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করতেন।
