৫/৪০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৫০ - ইশা ও ফজরের সালাতে নবীজির আমল
ফজরের সলাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ
ইশা ও ফজরের সালাতে নবীজির আমল
সহীহ মুসলিম : ১৩৫০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩৫০
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ عَمْرٍو الْكَلْبِيُّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلاَمَةَ أَبِي الْمِنْهَالِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا بَرْزَةَ الأَسْلَمِيَّ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُؤَخِّرُ الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَيَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا وَكَانَ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ مِنَ الْمِائَةِ إِلَى السِّتِّينَ وَكَانَ يَنْصَرِفُ حِينَ يَعْرِفُ بَعْضُنَا وَجْهَ بَعْضٍ .
আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতেন। তিনি ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। আর ফাজরের সালাতে ষাট থেকে একশ’ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন এবং এমন সময় সালাত শেষ করতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম।
ই.ফা.১৩৩৭, ই.সে.১৩৪৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর ইশা ও ফজরের সালাতের আমল একসঙ্গে এসেছে। তিনি ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরি করে আদায় করতেন। তবে ইশার আগে ঘুমানো এবং ইশার পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ইশার সময় নিয়ে অবকাশ থাকলেও সালাতের আগে ঘুমিয়ে পড়া বা পরে অপ্রয়োজনীয় কথায় সময় নষ্ট করা ভালো নয়। একই হাদিসে ফজরের সালাতের কথাও এসেছে। ফজরে তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন এবং এমন সময়ে সালাত শেষ করতেন যখন মানুষ পরস্পরের মুখ দেখে চিনতে পারত। তাই এই হাদিস ইশার সালাতের সময়, ফজরের তিলাওয়াত এবং নামাজের শৃঙ্খলা সম্পর্কে সুন্দর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরি করার বর্ণনা এসেছে।
- ইশার আগে ঘুমানো ও পরে কথা বলা অপছন্দনীয় হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
- ফজরের সালাতে কোরআন তিলাওয়াতের দীর্ঘতা হাদিসে স্পষ্ট হয়েছে।
- সালাত শেষে মানুষ মুখ দেখে চিনতে পারত—এতে ফজরের সময়ের অবস্থা বোঝা যায়।
