৫/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৫১ - দেরিতে সালাত পড়লে করণীয়
নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সলাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে?
ইমাম সালাত দেরি করলে মুসলিমের করণীয়
সহীহ মুসলিম : ১৩৫১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩৫১
حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ «كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كَانَتْ عَلَيْكَ أُمَرَاءُ يُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ عَنْ وَقْتِهَا أَوْ يُمِيتُونَ الصَّلاَةَ عَنْ وَقْتِهَا». قَالَ قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ " صَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَهَا مَعَهُمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ نَافِلَةٌ». وَلَمْ يَذْكُرْ خَلَفٌ عَنْ وَقْتِهَا .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি যদি এমন ইমামের অধীনস্থ হয়ে পড় যে উত্তম সময়ে সালাত আদায় না করে দেরি করে আদায় করবে তাহলে কী করবে? আবূ যার (রাঃ) বলেন - এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম (হে আল্লাহর রাসূল!), এরূপ অবস্থায় পতিত হলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ করছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি উত্তম সময়ে সালাত আদায় করে নিবে। তারপরে যদি তাদের সাথে অর্থাৎ- ইমামের সাথে জামাআতে সালাত পাও তাহলে তাদের সাথেও আদায় করবে। এটা তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। তবে বর্ণনাকারী খালাফ (রহঃ) তার বর্ণনায় عَنْ وَقْتِهَا কথাটা উল্লেখ করেননি।
(আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৩৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩৫০)
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু জার (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একটি বাস্তব পরিস্থিতির নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, যদি এমন ইমামের অধীনে থাকতে হয় যারা উত্তম সময়ে সালাত আদায় না করে দেরি করবে, তাহলে কী করা উচিত। আবু জার (রাঃ) সরাসরি করণীয় জানতে চাইলে নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেন, তুমি উত্তম সময়ে সালাত আদায় করে নেবে। এরপর যদি তাদের সঙ্গে জামাতে সালাত পাও, তাহলে তাদের সঙ্গেও আদায় করবে। সেটি তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। এই হাদিস সময়মতো সালাত, ইমামের পেছনে সালাত এবং জামাতের সঙ্গে ভারসাম্য রাখার শিক্ষা দেয়। এতে নিজের ফরজ সালাত রক্ষা করার পাশাপাশি মুসলিম সমাজের জামাত থেকেও অকারণে আলাদা না হওয়ার দিকটি বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম দেরি করলেও নিজের সালাত সময়মতো আদায় করার নির্দেশ এসেছে।
- আগে সালাত পড়ে পরে জামাতে পেলে সেটি নফল হিসেবে পড়া যায়।
- সালাত রক্ষা করা ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।
- ধর্মীয় সংকটে সরাসরি নববী নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
