১/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৬ - বৃষ্টির বরকত ও কৃতজ্ঞতা
যে ব্যক্তি বলে ‘আমরা বৃষ্টিলাভ করেছি নক্ষত্রের গুনে’ তার কুফ্রীর বর্ণনা
বৃষ্টির বরকত আল্লাহর পক্ষ থেকে: কৃতজ্ঞতার শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ১৩৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩৬
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، ح وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا يُونُسَ، مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ «مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ بَرَكَةٍ إِلاَّ أَصْبَحَ فَرِيقٌ مِنَ النَّاسِ بِهَا كَافِرِينَ يُنْزِلُ اللَّهُ الْغَيْثَ فَيَقُولُونَ الْكَوْكَبُ كَذَا وَكَذَا» وَفِي حَدِيثِ الْمُرَادِيِّ «بِكَوْكَبِ كَذَا وَكَذَا».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা আকাশ থেকে কোন বরকত (বৃষ্টি) অবতীর্ণ করলে একদল লোক সকালে তা অস্বীকার করে, বৃষ্টিপাত করান আল্লাহ তা’আলা আর তারা বলতে থাকেন যে, অমুক অমুক নক্ষত্র। মুরাদীর হাদীসে ‘অমুক অমুক নক্ষত্রের কারণে’ কথার উল্লেখ রয়েছে।
ই.ফা. ১৩৭; ই.সে. ১৪১
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহ আকাশ থেকে কোনো বরকত বা বৃষ্টি নামালে একদল লোক সকালে তা অস্বীকার করে। বৃষ্টিপাত করান আল্লাহ, অথচ তারা বলতে থাকে, অমুক অমুক নক্ষত্র। মুরাদীর বর্ণনায় এসেছে, “অমুক অমুক নক্ষত্রের কারণে”। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বৃষ্টির বরকত, আল্লাহর অনুগ্রহ এবং নক্ষত্রের নামে নিয়ামতকে ফিরিয়ে দেওয়ার ভুল। বৃষ্টি মানুষের জীবনে বড় উপকার আনে। কিন্তু হাদিস শেখায়, উপকার দেখেই কারণকে ভুল জায়গায় দেওয়া যাবে না। নিয়ামতের আসল মালিক আল্লাহ। তাই “বৃষ্টি আল্লাহর রহমত” বলা একজন মুমিনের কৃতজ্ঞ ভাষা। আর নক্ষত্রকে স্বাধীনভাবে বরকতের কারণ বলা হাদিসে কঠোরভাবে নিন্দিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৃষ্টি ও বরকত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।
- নিয়ামতকে নক্ষত্রের নামে বলা অকৃতজ্ঞতার পথ।
- মুমিনের ভাষা কৃতজ্ঞতাপূর্ণ হওয়া উচিত।
- আল্লাহর কাজকে অন্য কিছুর স্বাধীন প্রভাব হিসেবে বলা থেকে বাঁচা দরকার।
