৫/৪৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৯৬ - সালাতের জন্য অপেক্ষার সওয়াব
ফারয সলাত জামা‘আতে আদায়ের ফাযীলত এবং সলাতের জন্য অপেক্ষা করা
সালাতের জন্য অপেক্ষা করা কেন মূল্যবান আমল
সহীহ মুসলিম : ১৩৯৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩৯৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «لاَ يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا دَامَتِ الصَّلاَةُ تَحْبِسُهُ لاَ يَمْنَعُهُ أَنْ يَنْقَلِبَ إِلَى أَهْلِهِ إِلاَّ الصَّلاَةُ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের জন্য কোন ব্যক্তি অপেক্ষা করে এবং শুধু সালাতের কারণেই সে ঘরে (পরিবার-পরিজনের কাছে) ফিরে যায় না ততক্ষণ পর্যন্ত সে যেন সালাতরত অবস্থায়ই থাকে (অর্থাৎ- যতক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতের জন্য অপেক্ষা করল ততক্ষণ সে সালাত আদায় করল বলেই ধরে নেয়া হবে)।
ই.ফা. ১৩৮২, ই.সে. ১৩৯৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের জন্য অপেক্ষা করার একটি গভীর শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যতক্ষণ কোনো ব্যক্তি সালাতের জন্য অপেক্ষা করে এবং শুধু সালাতের কারণেই পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যায় না, ততক্ষণ সে যেন সালাতরত অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ সে দাঁড়িয়ে সালাত পড়ছে না, কিন্তু তার অপেক্ষাটিও ইবাদতের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। এখানে মূল বিষয় হলো নিয়ত এবং সালাতের প্রতি মনোযোগ। মানুষ চাইলে ঘরে ফিরে যেতে পারত, অন্য কাজে ব্যস্ত হতে পারত; কিন্তু সালাতের জন্য নিজেকে আটকে রাখছে। এই অপেক্ষা আল্লাহর ইবাদতের প্রতি ভালোবাসার পরিচয় দেয়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, সালাতের আগে মসজিদে বসে থাকা বা জামাতের জন্য অপেক্ষা করা সময় নষ্ট নয়; বরং বর্ণনা অনুযায়ী তা সালাতের সাথে সম্পর্কিত মূল্যবান সময়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের জন্য অপেক্ষা করা সালাতরত থাকার মতো গণ্য হয়েছে।
- শুধু সালাতের কারণে ফিরে না যাওয়া আন্তরিক নিয়তের পরিচয়।
- মসজিদে বা সালাতের স্থানে অপেক্ষা করা মূল্যবান ইবাদতের অংশ।
- সালাতের প্রতি মনোযোগ একজন মুমিনের সময়কে অর্থবহ করে।
