৫/৪৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৯৫ - সালাতের অপেক্ষা ও ওযু ভঙ্গ
ফারয সলাত জামা‘আতে আদায়ের ফাযীলত এবং সলাতের জন্য অপেক্ষা করা
সালাতের অপেক্ষা, ফেরেশতাদের দোয়া ও ওযু ভঙ্গ
সহীহ মুসলিম : ১৩৯৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩৯৫
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «لاَ يَزَالُ الْعَبْدُ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَ فِي مُصَلاَّهُ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ وَتَقُولُ الْمَلاَئِكَةُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ . حَتَّى يَنْصَرِفَ أَوْ يُحْدِثَ» . قُلْتُ مَا يُحْدِثُ قَالَ يَفْسُو أَوْ يَضْرِطُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের জন্য বসে সালাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতরত থাকে আর মালায়িকাহ্ও ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য এ বলে দোয়া করতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহম করো। (আর মালায়িকাহ্) ততক্ষণ পর্যন্ত এরূপ দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ সে সেখান থেকে উঠে চলে না যায় কিংবা যতক্ষণ ওজু নষ্ট না করে। হাদীস বর্ণনাকারী আবূ রাফি’ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘হাদাস বা ওজু নষ্ট করা কাকে বলে? তিনি বললেনঃ নিঃশব্দে বা সশব্দে বায়ু নিঃসরণ করা।
ই.ফা. ১৩৮১, ই.সে. ১৩৯৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের জন্য অপেক্ষা করার ফজিলত আরও পরিষ্কারভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ নিজের সালাতের স্থানে বসে সালাতের অপেক্ষা করে, ততক্ষণ সে সালাতরত থাকে। এ সময় ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করেন—হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তাকে রহম করুন। এই দোয়া চলতে থাকে যতক্ষণ সে সেখান থেকে চলে না যায় অথবা ওযু নষ্ট না করে। বর্ণনায় ‘হাদাস’ বা ওযু নষ্ট হওয়ার ব্যাখ্যাও এসেছে। রাফি’ জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, নিঃশব্দে বা সশব্দে বায়ু বের হওয়া। তাই এই হাদিসে সালাতের অপেক্ষা, ফেরেশতাদের দোয়া এবং ওযু ভঙ্গের একটি বাস্তব ব্যাখ্যা একসাথে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের স্থানে বসে সালাতের অপেক্ষা করলে সালাতরত থাকার মতো গণ্য হয়।
- ফেরেশতারা অপেক্ষমাণ ব্যক্তির জন্য ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করেন।
- সেখান থেকে চলে গেলে বা ওযু নষ্ট হলে এই অবস্থা শেষ হয়।
- বায়ু বের হওয়া ওযু ভঙ্গের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনায় এসেছে।
