৫/৫৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৪২৮ - ফজরের কুনুত ও অসহায় মুমিনদের মুক্তি
যখন মুসলিমদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তখন সকল সলাতে ‘কুনূ্তে নাযিলাহ্’ পাঠ মুস্তাহাব
ফজরের কুনুতে অসহায় মুমিনদের জন্য দোয়া
সহীহ মুসলিম : ১৪২৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৪২৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَنَتَ بَعْدَ الرَّكْعَةِ فِي صَلاَةٍ شَهْرًا إِذَا قَالَ «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ» .يَقُولُ فِي قُنُوتِهِ " اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ اللَّهُمَّ نَجِّ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ اللَّهُمَّ نَجِّ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ اللَّهُمَّ نَجِّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ» .قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ثُمَّ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ تَرَكَ الدُّعَاءَ بَعْدُ فَقُلْتُ أُرَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ تَرَكَ الدُّعَاءَ لَهُمْ - قَالَ - فَقِيلَ وَمَا تَرَاهُمْ قَدْ قَدِمُوا
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এক সময় একমাস যাবৎ ফজরের সালাতে দ্বিতীয় রাক‘আতে রুকূ থেকে ওঠার পরে কুনূত পড়েছেন। এতে তিনি যখন রুকূ থেকে উঠে “সামিআল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন তখন কুনূত পড়তে গিয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ, ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদকে মুক্ত করে দাও। হে আল্লাহ! সালামাহ্ ইবনু হিশামকে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! ‘আইয়্যাশ ইবনু আবূ রাবী‘আহ্কে মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! দুর্বল অসহায় মু‘মিনদেরকেও মুক্তি দাও। হে আল্লাহ! তুমি মুযার গোত্রকে তোমার কঠোরতা দ্বারা পিষে মারো। হে আল্লাহ! তুমি তাদের ওপর ইউসুফ (আঃ) -এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দান করো।আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেছেন, পরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে এ দোয়া পরিত্যাগ করতে দেখেছি। এতে আমি বিস্মিত হয়ে বললামঃ আমি দেখছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এখন তাদের জন্য দোয়া করা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ আমাকে তখন বলা হলো তুমি কি দেখছ না যে, তাঁরা সবাই মুক্ত হয়ে চলে এসেছেন?
ই.ফা. ১৪১৩, ই.সে. ১৪২৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৪২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফজরের কুনুতের একটি স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) এক মাস ফজরের সালাতের দ্বিতীয় রাকাতে রুকু থেকে ওঠার পর কুনুত পড়েছেন। তিনি “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর কয়েকজন মুমিনের নাম ধরে মুক্তির জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে দুর্বল অসহায় মুমিনদের জন্যও মুক্তির দোয়া করেন। এখানে কুনুতের দোয়া শুধু সাধারণ দোয়া নয়; বরং বিপদে থাকা মুমিনদের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার একটি দৃষ্টান্ত। পরে আবু হুরায়রাহ (রাঃ) দেখেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এ দোয়া ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁকে জানানো হয়, যাদের জন্য দোয়া করা হচ্ছিল তারা ফিরে এসেছেন। তাই হাদিসটি দেখায়, সালাতে কুনুত কখনো নির্দিষ্ট প্রয়োজন ও বাস্তব অবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদে থাকা মুমিনদের জন্য সালাতে দোয়া করা হয়েছে।
- কুনুত রুকু থেকে ওঠার পর পড়া হয়েছে বলে এই বর্ণনায় এসেছে।
- যাদের জন্য দোয়া করা হচ্ছিল তারা ফিরে আসার পর দোয়া ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
- দোয়ায় অসহায় মুমিনদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
