৫/৫৫. অধ্যায়ঃ

যে সলাত আদায় করা সম্ভব হয়নি এবং তা করার (সম্পাদনের) ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব

সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৪৪৮

وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ إِنَّكُمْ تَسِيرُونَ عَشِيَّتَكُمْ وَلَيْلَتَكُمْ وَتَأْتُونَ الْمَاءَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ غَدًا ‏"‏ ‏.‏ فَانْطَلَقَ النَّاسُ لاَ يَلْوِي أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ - قَالَ أَبُو قَتَادَةَ - فَبَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسِيرُ حَتَّى ابْهَارَّ اللَّيْلُ وَأَنَا إِلَى جَنْبِهِ - قَالَ - فَنَعَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَالَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَأَتَيْتُهُ فَدَعَمْتُهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ أُوقِظَهُ حَتَّى اعْتَدَلَ عَلَى رَاحِلَتِهِ - قَالَ - ثُمَّ سَارَ حَتَّى تَهَوَّرَ اللَّيْلُ مَالَ عَنْ رَاحِلَتِهِ - قَالَ - فَدَعَمْتُهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ أُوقِظَهُ حَتَّى اعْتَدَلَ عَلَى رَاحِلَتِهِ - قَالَ - ثُمَّ سَارَ حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ السَّحَرِ مَالَ مَيْلَةً هِيَ أَشَدُّ مِنَ الْمَيْلَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ حَتَّى كَادَ يَنْجَفِلُ فَأَتَيْتُهُ فَدَعَمْتُهُ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ ‏"‏ مَنْ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ أَبُو قَتَادَةَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَتَى كَانَ هَذَا مَسِيرَكَ مِنِّي ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ مَا زَالَ هَذَا مَسِيرِي مُنْذُ اللَّيْلَةِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ حَفِظَكَ اللَّهُ بِمَا حَفِظْتَ بِهِ نَبِيَّهُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ هَلْ تَرَانَا نَخْفَى عَلَى النَّاسِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ هَلْ تَرَى مِنْ أَحَدٍ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ هَذَا رَاكِبٌ ‏.‏ ثُمَّ قُلْتُ هَذَا رَاكِبٌ آخَرُ ‏.‏ حَتَّى اجْتَمَعْنَا فَكُنَّا سَبْعَةَ رَكْبٍ - قَالَ - فَمَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الطَّرِيقِ فَوَضَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ احْفَظُوا عَلَيْنَا صَلاَتَنَا ‏"‏ ‏.‏ فَكَانَ أَوَّلَ مَنِ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالشَّمْسُ فِي ظَهْرِهِ - قَالَ - فَقُمْنَا فَزِعِينَ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ ارْكَبُوا ‏"‏ ‏.‏ فَرَكِبْنَا فَسِرْنَا حَتَّى إِذَا ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ نَزَلَ ثُمَّ دَعَا بِمِيضَأَةٍ كَانَتْ مَعِي فِيهَا شَىْءٌ مِنْ مَاءٍ - قَالَ - فَتَوَضَّأَ مِنْهَا وُضُوءًا دُونَ وُضُوءٍ - قَالَ - وَبَقِيَ فِيهَا شَىْءٌ مِنْ مَاءٍ ثُمَّ قَالَ لأَبِي قَتَادَةَ ‏"‏ احْفَظْ عَلَيْنَا مِيضَأَتَكَ فَسَيَكُونُ لَهَا نَبَأٌ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَذَّنَ بِلاَلٌ بِالصَّلاَةِ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى الْغَدَاةَ فَصَنَعَ كَمَا كَانَ يَصْنَعُ كُلَّ يَوْمٍ - قَالَ - وَرَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكِبْنَا مَعَهُ - قَالَ - فَجَعَلَ بَعْضُنَا يَهْمِسُ إِلَى بَعْضٍ مَا كَفَّارَةُ مَا صَنَعْنَا بِتَفْرِيطِنَا فِي صَلاَتِنَا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَمَا لَكُمْ فِيَّ أُسْوَةٌ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَمَا إِنَّهُ لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ عَلَى مَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلاَةَ حَتَّى يَجِيءَ وَقْتُ الصَّلاَةِ الأُخْرَى فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَلْيُصَلِّهَا حِينَ يَنْتَبِهُ لَهَا فَإِذَا كَانَ الْغَدُ فَلْيُصَلِّهَا عِنْدَ وَقْتِهَا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ مَا تَرَوْنَ النَّاسَ صَنَعُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَصْبَحَ النَّاسُ فَقَدُوا نَبِيَّهُمْ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَكُمْ لَمْ يَكُنْ لِيُخَلِّفَكُمْ ‏.‏ وَقَالَ النَّاسُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَإِنْ يُطِيعُوا أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ يَرْشُدُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَانْتَهَيْنَا إِلَى النَّاسِ حِينَ امْتَدَّ النَّهَارُ وَحَمِيَ كُلُّ شَىْءٍ وَهُمْ يَقُولُونَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْنَا عَطِشْنَا ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ لاَ هُلْكَ عَلَيْكُمْ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَطْلِقُوا لِي غُمَرِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَدَعَا بِالْمِيضَأَةِ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُبُّ وَأَبُو قَتَادَةَ يَسْقِيهِمْ فَلَمْ يَعْدُ أَنْ رَأَى النَّاسُ مَاءً فِي الْمِيضَأَةِ تَكَابُّوا عَلَيْهَا ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَحْسِنُوا الْمَلأَ كُلُّكُمْ سَيَرْوَى ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَفَعَلُوا فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُبُّ وَأَسْقِيهِمْ حَتَّى مَا بَقِيَ غَيْرِي وَغَيْرُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - ثُمَّ صَبَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي ‏"‏ اشْرَبْ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ لاَ أَشْرَبُ حَتَّى تَشْرَبَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ إِنَّ سَاقِيَ الْقَوْمِ آخِرُهُمْ شُرْبًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَشَرِبْتُ وَشَرِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَأَتَى النَّاسُ الْمَاءَ جَامِّينَ رِوَاءً ‏.‏ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ إِنِّي لأُحَدِّثُ هَذَا الْحَدِيثَ فِي مَسْجِدِ الْجَامِعِ إِذْ قَالَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ انْظُرْ أَيُّهَا الْفَتَى كَيْفَ تُحَدِّثُ فَإِنِّي أَحَدُ الرَّكْبِ تِلْكَ اللَّيْلَةَ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ فَأَنْتَ أَعْلَمُ بِالْحَدِيثِ ‏.‏ فَقَالَ مِمَّنْ أَنْتَ قُلْتُ مِنَ الأَنْصَارِ ‏.‏ قَالَ حَدِّثْ فَأَنْتُمْ أَعْلَمُ بِحَدِيثِكُمْ ‏.‏ قَالَ فَحَدَّثْتُ الْقَوْمَ فَقَالَ عِمْرَانُ لَقَدْ شَهِدْتُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ وَمَا شَعَرْتُ أَنَّ أَحَدًا حَفِظَهُ كَمَا حَفِظْتُهُ ‏.‏

আবু ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন (যুদ্ধ থেকে ফেরার সময়) রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে বক্তৃতা করলেন। তিনি বললেনঃ “আজকের বিকাল থেকে তোমাদের সারারাত পথ চলতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ আগামীকাল সকালে পানির কাছে উপস্থিত হবে।” সুতরাং লোকজন সেখান থেকে এভাবে যাত্রা করল যে, কেউ কারো দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিল না।আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন- রসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও পথ চলছিলেন। এক সময় রাত্রি দ্বিপ্রহর হয়ে গেল। আমি তাঁর পাশে পাশেই চলছিলাম। এ সময় রসূল (ﷺ) তন্দ্রায় ঝিমুচ্ছিলেন। ঘুমের প্রভাবে এক সময় তিনি (ﷺ) তাঁর সাওয়ারির উপর একদিকে ঝুঁকে পড়লেন। ঠিক সে সময় আমি তাঁর পাশে গিয়ে তাঁকে ঠেলে ধরলাম (অর্থাৎ-ঠেকনা দিলাম)। তিনি (ﷺ) সাওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন, কিন্তু তাঁকে জাগালাম না। এরপর তিনি (ﷺ) চলতে থাকলেন এবং এ অবস্থায় রাতের অধিকাংশ সময় অতিক্রান্ত হলে সাওয়ারির উপর থেকে আবার একদিকে ঝুঁকে পড়লেন। তখন আমি আবার তাঁকে সাওয়ারির উপর তাঁকে না জাগিয়ে ঠেলে ধরলাম। এভাবে তিনি (ﷺ) সাওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন।আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন- এরপর তিনি (ﷺ) আবার চলতে থাকলেন। রাত ভোর হয়ে আসলে তিনি (ﷺ) এবার প্রথম দু’বারের চেয়ে বেশি করে একদিকে ঝুঁকে পড়লেন, এমনকি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হল। তখন আমি পুনরায় ঠেস লাগিয়ে ধরলাম। এবার তিনি মাথা উঠিয়ে জিজ্ঞেস করেন- “কে?”আমি বললাম- “আবু কাতাদা।”তিনি (ﷺ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, “এভাবে আমার পাশে পাশে কতক্ষণ চলছ?”আমি বললাম, “আমি রাতের প্রথম থেকেই এভাবে আপনার সাথে চলছি।”তিনি (ﷺ) তখন বললেনঃ “আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করুন। কারণ তুমি তাঁর নবীকে দেখাশুনা করেছ।”তারপর তিনি (ﷺ) বললেনঃ “তুমি কি কাউকে দেখতে পাচ্ছ?”আমি বললাম, “হ্যাঁ এই তো একজন আরোহী।”তারপর বললাম, “এই তো আরও একজন আরোহী উপস্থিত হল।”এভাবে আমরা সাত জন একত্র হলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) রাস্তা থেকে কিছু সরে গিয়ে মাটিতে মাথা রাখলেন (অর্থাৎ- শুয়ে পড়লেন)। এ সময় তিনি (ﷺ) আমাদের বললেনঃ “সালাতের খেয়াল রেখো।”কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) ই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি নিদ্রা থেকে জাগ্রত হন, আর তখন সূর্যের আলো তাঁর পিঠের উপর এসে পড়েছিল। আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন- এরপর আমরা সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠে পড়লাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তোমরা সবাই যার যার সাওয়ারীতে সওয়ার হও।” তাই আমরা সাওয়ারীতে চেপে যাত্রা করলাম। সূর্য বেশ কিছু উপরে উঠলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাওয়ারী থেকে অবতরণ করে আমার কাছে অল্প পানিসহ যে ওযুর পাত্র ছিল তা চেয়ে নিয়ে অন্য সময়ের চেয়ে সংক্ষিপ্ত করে ওযু করলেন। আবু কাতাদা (রাঃ) বললেন- এরপরও ঐ পাত্রে কিছু পানি অবশিষ্ট থাকল। তিনি (ﷺ) আবু কাতাদা (রাঃ)-কে বললেনঃ “পাত্রটি রেখে দাও। দেখবে পরে বিস্ময়কর কাণ্ড ঘটবে।” তখন বিলাল (রাঃ) সালাতের আজান দিলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে দুই রাকাত (সুন্নাত) সালাত আদায় করলেন এবং প্রতিদিনের মত করে ফজরের ফরজ সালাত আদায় করলেন।আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন- অতঃপর সাওয়ারীতে আরোহণ করলে আমরাও সাওয়ারিতে আরোহণ করে তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। এ সময়ে আমরা পরস্পর চুপিসারে বলাবলি করছিলাম যে, আমরা সালাতের ব্যাপারে যে অবহেলা প্রদর্শন করছিলাম তার কাফ্‌ফারা বা ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “আমার জীবন ও কাজ-কর্ম কি তোমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ নয়?” এরপর তিনি (ﷺ) আবার বললেনঃ “ঘুমানোতে কোন দোষ বা অবহেলা নেই। অবহেলা তখনই বলা হবে যদি কোন ব্যক্তি সালাত আদায় না করে দেরি করে এবং অন্য সালাতের ওয়াক্ত হয়ে যায়। কোন সময় কারো যদি এরূপ হয়ে যায় সে যখন জাগ্রত হবে তখনই যেন সালাত আদায় করে নেয়। পরদিন সকালে যেন সে সময়মত সালাত আদায় করে।”পরে তিনি বললেনঃ “অন্য সবাই কী করছে তা কি জান?”সকালে লোকজন যখন তাদের নবীকে দেখতে পেল না তখন আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) তাদের বললেন, “রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের পিছনে আছেন। তিনি তোমাদের পিছনে ফেলে যেতে পারেন না।” কিন্তু লোকজন বললঃ “রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের সামনে আছেন।” (নবী ﷺ বললেন) “এ ব্যাপারে তারা যদি আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর কথা মানতো তাহলে সঠিক কাজ করত।”আবু কাতাদা (রাঃ) বলেনঃ যখন বেলা বেড়ে দুপুর হল এবং সবকিছু সূর্যতাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠল তখন আমরা লোকজনের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। তখন তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে এসে বলছিলঃ “হে আল্লাহর রসূল! আমরা পিপাসায় মরে গেলাম।”রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “না, তোমরা মরবে না।”এরপর তিনি বললেনঃ “আমার ছোট পেয়ালাটা আনো।” অতঃপর তিনি (ﷺ) ওযুর পাত্রটাও চেয়ে নিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) পেয়ালাতে পানি ঢালতে থাকলেন আর আবু কাতাদা (রাঃ) পান করাতে থাকলেন। লোকজন যখন দেখল যে, পানি মাত্র একপাত্র আর এতগুলো লোক, তখন তারা (পানি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে) ভিড় জমিয়ে তুলল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তোমরা ধীরে সুস্থে পানি পান করতে থাকো। সবাইকে তৃপ্তি সহকারে পানি পান করানো যাবে।” সুতরাং লোকজন তাই করল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি ঢালছিলেন আর আমি (আবু কাতাদা) পান করাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া পানি পান করার মত আর কেউ অবশিষ্ট রইল না। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) পেয়ালার পানি ঢেলে আমাকে বললেনঃ “পান করো।”আমি বললাম- “হে আল্লাহর রসূল! আপনি পান না করা পর্যন্ত আমি পান করব না।”এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “যিনি পান করান তিনি সবার শেষে পান করেন।”আবু কাতাদা (রাঃ) বলেনঃ আমি তখন পানি পান করলাম। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) পান করলেন। পরে অবশ্য লোকজন পানি পান করার ফলে শান্ত মনে তৃপ্তি সহকারে যেতে থাকল।হাদীসের বর্ণনাকারী সাবিত বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ (রাঃ) বলেন, “আমি জামে মসজিদে এই হাদীস বর্ণনা করছিলাম।” তখন ইমরান ইবন হুসাইনের (রাঃ) বললেন, “হে যুবক! দেখে শুনে বর্ণনা করো। কারণ, আমি সেই রাতের কাফেলার একজন ছিলাম।”আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ (রাঃ) বললেনঃ “তাহলে তো আপনি এ হাদীসটি সম্পর্কে ভাল জানেন।” তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “তুমি কোন কওমের লোক?”আমি বললাম, “আমি আনসারদের একজন।”তিনি বললেন, “তাহলে বর্ণনা কর। কেননা, তুমি তোমার হাদীস সম্পর্কে নিশ্চয়ই ভালোভাবে অবহিত আছ।” আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ (রাঃ) বলেন- “আমি ঐ রাতে কাফিলায় শরীক ছিলাম। তবে আমি জানতাম না যে, অন্য কেউও আমার মত হাদিসটি স্মরণ রেখেছেন।”

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৪৩৩ ইসলামীক সেন্টারঃ ১৪৪২

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন