৬/২৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৬৫ - তারাবিতে নবীজির উৎসাহ
রমাযানে তারাবীহ সলাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা
তারাবি পড়তে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর উৎসাহ
সহীহ মুসলিম : ১৬৬৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৬৬৫
وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ فِيهِ بِعَزِيمَةٍ فَيَقُولُ «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ». فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ عَلَى ذَلِكَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃঢ় বা কঠোরভাবে নির্দেশ না দিয়ে রমজান মাসের তারাবীহ পড়তে উৎসাহিত করে বলতেন: যে ব্যক্তি ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে রমজান মাসের তারাবীহ পড়ল তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুবরণ করলেন। তখনও এ অবস্থা চলছিল (অর্থাৎ মানুষকে তারাবীহ পড়তে নির্দেশ না দিয়ে শুধু উৎসাহিত করা হত)। আবূ বকর (রাঃ) এর খিলাফতকালে এবং ‘উমর (রাঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকেও এ নীতি কার্যকর ছিল।
ই.ফা. ১৬৫০, ই.সে. ১৬৫৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তারাবি বা কিয়ামুল রমজান সম্পর্কে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর পদ্ধতি এসেছে। তিনি কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক নির্দেশ না দিয়ে মানুষকে রমজানের রাতে দাঁড়াতে উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রমজানের তারাবি পড়ে, তার পূর্বের পাপ ক্ষমা করা হয়। এরপর বর্ণনায় এসেছে, নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবদ্দশায় এভাবেই বিষয়টি ছিল; আবু বকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালেও এবং উমর (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম দিকেও একই অবস্থা ছিল। হাদিসটি দেখায়, তারাবির মূল প্রাণ হলো ঈমান, ইখলাস ও আল্লাহর প্রতিদানের আশা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তারাবির প্রতি উৎসাহ দিতেন।
- তারাবি পড়ার মূল শর্ত হলো ঈমান ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশা।
- কঠোর নির্দেশের বদলে উৎসাহের পদ্ধতি বর্ণনায় এসেছে।
- সাহাবীদের সময়েও এই আমলের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ আছে।
