৬/২৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৮৪ - আলে ইমরান পড়ে রাতের সালাত

রাত্রিকালীণ সলাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম

আলে ইমরানের আয়াত ও নবীজির তাহাজ্জুদ

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৬৮৪

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ رَقَدَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَاسْتَيْقَظَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ وَهُوَ يَقُولُ { إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ﴿ فَقَرَأَ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ حَتَّى خَتَمَ السُّورَةَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَأَطَالَ فِيهِمَا الْقِيَامَ وَالرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ ثُمَّ انْصَرَفَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ ثُمَّ فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سِتَّ رَكَعَاتٍ كُلَّ ذَلِكَ يَسْتَاكُ وَيَتَوَضَّأُ وَيَقْرَأُ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ ثُمَّ أَوْتَرَ بِثَلاَثٍ فَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ فَخَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَهُوَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي لِسَانِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ خَلْفِي نُورًا وَمِنْ أَمَامِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا وَمِنْ تَحْتِي نُورًا . اللَّهُمَّ أَعْطِنِي نُورًا»

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে জেগে উঠে মিসওয়াক ও ওজু করলেন।এ সময় তিনি (কোরআন মাজীদের এ আয়াতগুলো) পড়ছিলেন : إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ “আসমান ও জমিনের সৃষ্টি কৌশলে এবং রাত ও দিনের পালাক্রমে আগমন নির্গমনে সুধী ও জ্ঞানীজনদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে”- (সূরা আলি ইমরান ৩ : ১৯০)।এভাবে তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পড়লেন। এরপর উঠে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। এতে তিনি (ﷺ) ক্বিয়াম, রুকু ও সিজদাহ্ দীর্ঘায়িত করলেন এবং শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডেকে ঘুমালেন। তিনবার তিনি এরূপ করলেন এবং এভাবে তিনি ছয় রাক‘আত সালাত আদায় করলেন প্রত্যেক বার তিনি মিসওয়াক করলেন, ওজু করলেন এবং এ আয়াতগুলো পড়লেন। সর্বশেষে তিন রাক‘আত বিত্‌র পড়লেন।অতঃপর মুয়াজ্জিন আযান দিলে তিনি সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন। তখন তিনি এ বলে দোয়া করেছিলেন: “আল্ল-হুম্মআজ্’আল ফী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়াফী লিসা-নী নূরাওঁ ওয়াজ’আল ফী সাম’ঈ নূরাওঁ ওয়াজ্‌’আল ফী বাসারী নূরাওঁ ওয়াজ্‌’আল মিন খলফী নূরাওঁ ওয়ামিন আমা-মী নূরাওঁ ওয়াজ্‌’আল মিন ফাওক্বী নূরাওঁ ওয়ামিন তাহ্‌তী নূরান্‌, আল্ল-হুম্মা আ’ত্বিনী নূরা-” অর্থাৎ হে আল্লাহ আমার হৃদয় মনে আলো (নূর) সৃষ্টি করে দাও, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার পিছন দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার সামনের দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার উপর দিক থেকে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার নীচের দিক থেকেও আলো সৃষ্টি করে দাও। হে আল্লাহ! আমাকে নূর বা আলো দান কর।)

ই.ফা. ১৬৬৯, ই.সে. ১৬৭৬

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৮৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের সালাতের বিস্তারিত একটি ধারা এসেছে। তিনি ঘুম থেকে জেগে মিসওয়াক ও ওজু করেন। তখন তিনি সূরা আলে ইমরানের আয়াত পড়ছিলেন—আসমান-জমিনের সৃষ্টি এবং রাত-দিনের পালাবদলের নিদর্শন নিয়ে আয়াত। তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পড়েন। এরপর দুই রাকাত সালাত পড়েন এবং কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করেন। এরপর ঘুমান। এভাবে তিনবার করেন, মোট ছয় রাকাত হয়। প্রত্যেক বার তিনি মিসওয়াক, ওজু ও আয়াত পাঠ করেন। শেষে তিন রাকাত বিতর পড়েন। মুয়াজ্জিন আযান দিলে তিনি সালাতের জন্য বের হন এবং নূরের দোয়া করেন। এই হাদিসে তাহাজ্জুদ, কুরআন তিলাওয়াত, মিসওয়াক, ওজু, দীর্ঘ সালাত, বিতর ও নূরের দোয়া একসাথে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাতের সালাতের আগে কুরআনের আয়াত পাঠের আমল এসেছে।
  • নবী صلى الله عليه وسلم কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করেছেন বলে বর্ণিত হয়েছে।
  • প্রত্যেকবার মিসওয়াক ও ওজু করার কথা এসেছে।
  • শেষে বিতর ও নূরের দোয়া—দুইটিই এই বর্ণনায় আছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন