৭/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৫২ - অন্যের মুখে কুরআন শ্রবণ
কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফাযীলাত, তিলাওয়াত শোনার জন্য হাফিযুল কুরআনকে তিলাওয়াত করার অনুরোধ ও তিলাওয়াতকালে ক্রন্দন এবং মনোনিবেশ করা।
অন্যের মুখে কুরআন শুনে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কান্না
সহীহ মুসলিম : ১৭৫২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭৫২
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنْ حَفْصٍ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " اقْرَأْ عَلَىَّ الْقُرْآنَ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ " إِنِّي أَشْتَهِي أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي " . فَقَرَأْتُ النِّسَاءَ حَتَّى إِذَا بَلَغْتُ ﴾ فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا﴿ رَفَعْتُ رَأْسِي أَوْ غَمَزَنِي رَجُلٌ إِلَى جَنْبِي فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَرَأَيْتُ دُمُوعَهُ تَسِيلُ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ তুমি আমাকে কোরআন পাঠ করে শোনাও। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসুল! আমি আপনাকে কোরআন পাঠ করে শোনাব? কোরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ অন্যের নিকট থেকে আমার কোরআন শুনতে ভাল লাগে। বলেন- তাই এরপর আমি সূরা আন্ নিসা পাঠ করলাম।যখন আমি এ আয়াত فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا ‘হে নবী! একটু চিন্তা করুন তো সে সময় এরা কী করবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব”(সূরা আন্ নিসা ৪:৪১)।তিলাওয়াত করা হলে আমি মাথা উঠালাম অথবা কেউ আমার পার্শ্বদেশ স্পর্শ করে ইঙ্গিত দিলে মাথা উঠালাম এবং দেখতে পেলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর (চোখ থেকে) অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
ই.ফা.১৭৩৭, ই.সে.১৭৪৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরআন শ্রবণের গভীর প্রভাব দেখা যায়। রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে বললেন, তাঁকে কুরআন পাঠ করে শোনাতে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) অবাক হয়ে বললেন, কুরআন তো আপনার ওপরই নাযিল হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তিনি অন্যের কাছ থেকে কুরআন শুনতে ভালোবাসেন। এরপর সূরা আন নিসা পাঠ করা হলো। যখন এমন আয়াত এলো যেখানে প্রত্যেক উম্মতের সাক্ষী এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাক্ষ্য দেওয়ার কথা আছে, তখন তাঁর চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। হাদিসটি শেখায়—কুরআন শুধু পড়ার বিষয় নয়; মন দিয়ে শুনলেও হৃদয় নরম হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন অন্যের মুখ থেকে শোনাও মূল্যবান আমল।
- কুরআনের আয়াত হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
- নবী صلى الله عليه وسلم নিজেও কুরআন শুনতে ভালোবাসতেন।
- কুরআন শ্রবণে মনোযোগ ও বিনয় থাকা দরকার।
