৭/১৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৮৯ - কিরাআত ভিন্নতা ও উম্মতের সহজতা
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা
কিরাআত ভিন্নতা নিয়ে সন্দেহের সমাধান
সহীহ মুসলিম : ১৭৮৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭৮৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كُنْتُ فِي الْمَسْجِدِ فَدَخَلَ رَجُلٌ يُصَلِّي فَقَرَأَ قِرَاءَةً أَنْكَرْتُهَا عَلَيْهِ ثُمَّ دَخَلَ آخَرُ فَقَرَأَ قِرَاءَةً سِوَى قِرَاءَةِ صَاحِبِهِ فَلَمَّا قَضَيْنَا الصَّلاَةَ دَخَلْنَا جَمِيعًا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ إِنَّ هَذَا قَرَأَ قِرَاءَةً أَنْكَرْتُهَا عَلَيْهِ وَدَخَلَ آخَرُ فَقَرَأَ سِوَى قِرَاءَةِ صَاحِبِهِ فَأَمَرَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَرَءَا فَحَسَّنَ النَّبِيُّ ﷺ شَأْنَهُمَا فَسُقِطَ فِي نَفْسِي مِنَ التَّكْذِيبِ وَلاَ إِذْ كُنْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا قَدْ غَشِيَنِي ضَرَبَ فِي صَدْرِي فَفِضْتُ عَرَقًا وَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَرَقًا فَقَالَ لِي " يَا أُبَىُّ أُرْسِلَ إِلَىَّ أَنِ اقْرَإِ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفٍ فَرَدَدْتُ إِلَيْهِ أَنْ هَوِّنْ عَلَى أُمَّتِي فرد إلي الثالثة اقرأه على سبعة أحرف فلك بكل ردة رددتكها مسألة تسألنيها فقلت اللهم اغفر لأمتي اللهم اغفر لأمتي وأخرت الثالثة ليوم يرغب إلي الخلق كلهم حتى إبراهيم ﷺ
উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মাসজিদে থাকা অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করে সালাত শুরু করল। সে এমন পদ্ধতিতে ক্বিরাআত পড়ল যা আমার নিকট অভিনব মনে হ'ল। অতঃপর আরেক ব্যক্তি প্রবেশ করে আগের ব্যক্তি থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) ক্বিরাআত পড়ল। আমরা সালাত শেষ করে সকলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, এ ব্যক্তি এমন (পদ্ধতিতে) ক্বিরাআত পড়েছে যে, আমার নিকট অভিনব মনে হয়েছে। অতঃপর আরেকজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী জনের থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) ক্বিরাআত পড়েছে।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের উভয়ের ক্বিরাআত সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য করলেন। এতে আমার মনে মিথ্যা অবিশ্বাসের উদ্রেক হ'ল, এমনকি জাহিলী যুগেও এমন তীব্র অবিশ্বাসের উদ্রেক হয়নি। আমাকে যে চিন্তা আচ্ছন্ন করেছিল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে আমার বক্ষস্থলে আঘাত করলেন। এতে আমি ঘর্মাক্ত হয়ে পড়লাম। যেন আমি ভীত-বুহ্বল হয়ে মহামহিম আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছি।তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ হে উবাই! আমার নিকট বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, আমি যেন এক হরফে (উচ্চারণ পদ্ধতিতে) কোরআন পড়ি। আমি অনুরোধ করে বললাম, আমার উম্মতের প্রতি সহজসাধ্য করুন। আমাকে প্রত্যুত্তরে বলা হল, তা দু' হরফে (পদ্ধতিতে) পড়ুন। আমি তাঁকে পুনরায় অনুরোধ করলাম যে, আমার উম্মতের প্রতি সহজসাধ্য করুন।তৃতীয়বারে আমাকে বলা হল, তা সাত হরফে (পদ্ধতিতে) পাঠ করুন এবং আমার এ তিনবারের প্রতিবার প্রত্যুত্তরের পরিবর্তে আপনার জন্য একটি করে কিছু আমার নিকট প্রার্থনা করতে পারেন (যা আমি কবুল করব)। আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমার উম্মাতকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! আমার উম্মাতকে ক্ষমা করুন। আর তৃতীয় প্রার্থনাটি আমি সেদিনের জন্য স্থগিত করে রেখেছি, যেদিন সমগ্র সৃষ্টি, এমনকি ইব্রাহীম ('আঃ) পর্যন্ত আমার প্রতি আগ্রহান্বিত হবেন।
ই.ফা. ১৭৭৪, ই.সে. ১৭৮১
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) মসজিদে দুই ব্যক্তিকে ভিন্ন পদ্ধতিতে কুরআন পড়তে শুনেন। তাঁর কাছে বিষয়টি নতুন মনে হয়। পরে তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গেলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উভয়ের কিরাআতকে ভালো বলেন। এতে উবাই (রাঃ)-এর মনে কঠিন অস্বস্তি তৈরি হয়। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁর অবস্থা দেখে বুঝিয়ে দেন যে, প্রথমে এক হরফে কুরআন পাঠের নির্দেশ এসেছিল। তিনি উম্মতের সহজতার জন্য দোয়া করেন। পরে সাত হরফে কুরআন পাঠের অনুমতি আসে। এখানে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মতের প্রতি দয়া স্পষ্ট। তিনি দুইবার উম্মতের ক্ষমা চান এবং একটি দোয়া পরের দিনের জন্য রেখে দেন। তাই কুরআন কিরাআত ভিন্নতা বুঝতে ধৈর্য, জ্ঞান ও নবীজির নির্দেশের প্রতি আস্থা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সহীহ কিরাআতের ভিন্নতা দেখে তাড়াহুড়া করে অস্বীকার করা ঠিক নয়।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের জন্য সহজতা চেয়েছেন।
- সন্দেহ হলে জ্ঞানী ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর দোয়ায় উম্মতের প্রতি তাঁর গভীর মমতা প্রকাশ পায়।
