৭/১৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮০৫ - ফজর ও আসরের পর সালাত নিষেধ
যে সকল ওয়াক্তে সলাত আদায় করা নিষেধ
ফজর ও আসরের পর সালাতের নিষিদ্ধ সময়
সহীহ মুসলিম : ১৮০৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৮০৫
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। [৩৯]
[৩৯] এ সময়ে ফার্যের ক্বাযা আদায় করা যাবে এ মর্মে উলামাদের ঐকমত্য রয়েছে। কারণগত সালাত যেমন তাহ্ইয়্যাতুল মসজিদ, তিলাওয়াতের সাজদাহ্ ও শুক্রের সাজদাহ্, চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের সালাত, জানাযাহ্ আদায় করার ব্যাপারে আবূ হানীফা (রহঃ) বিপরীত মত পোষণ করলেও অধিকাংশ উলামাগণ এ সময়ে এ সকল সালাত আদায়ের পক্ষে জোরালো মত পোষণ করেছেন। আর ছুটে যাওয়া ফজরের সুন্নাতও আদায় করা যাবে যেমনটি নবী (ﷺ)-যুহরের পরের দু’ রাক‘আত সুন্নাত আসরের পরে আদায় করেছিলেন-যার স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। (মুসলিম শারহে নাবাবী-১ম খণ্ড ২৭৫ পৃষ্ঠা)ই.ফা. ১৭৯০,ই.সে. ১৭৯৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুই সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। প্রথমটি হলো আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। দ্বিতীয়টি হলো ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। হাদিসের ভাষা সরাসরি ও সংক্ষিপ্ত; তাই এর শিক্ষা বুঝতেও মূল বক্তব্যে থাকা দরকার। এখানে সালাতের নিষিদ্ধ সময় বা “নামাজের নিষিদ্ধ সময়” বিষয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা এসেছে। একজন মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, নফল সালাত বা অতিরিক্ত সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে সময়ের সীমা জানা। এই বর্ণনা অতিরিক্ত ব্যাখ্যার বদলে সময় দুটির প্রতি সতর্ক করে: ফজরের পর সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত। সালাত ভালো আমল, কিন্তু নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশিত সময়-আদব মানাও ইবাদতের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের সালাতের পর সূর্য ওঠা পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- আসরের সালাতের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত সালাত নিষেধ করা হয়েছে।
- নফল সালাতের ক্ষেত্রেও সময়ের আদব জানা দরকার।
- ইবাদতে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশিত সীমা মানা গুরুত্বপূর্ণ।
