১/৪৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯২ - শাসকের কাছে কথা লাগানোর সতর্কতা
চোগলখোরী জঘন্যতম হারাম
মানুষের কথা লাগানো কেন ভয়ংকর
সহীহ মুসলিম : ১৯২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৯২
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ كَانَ رَجُلٌ يَنْقُلُ الْحَدِيثَ إِلَى الأَمِيرِ فَكُنَّا جُلُوسًا فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ الْقَوْمُ هَذَا مِمَّنْ يَنْقُلُ الْحَدِيثَ إِلَى الأَمِيرِ. قَالَ فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَيْنَا. فَقَالَ حُذَيْفَةُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَتَّاتٌ " .
হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি সাধারণ লোকজনের কথাবার্তা শাসনকর্তার নিকট পৌঁছাত। একদা আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। উপবিষ্ট লোকেরা বলল, এ সে ব্যক্তি যে লোকজনের কথাবার্তা শাসনকর্তার নিকট পৌঁছায়। রাবী বললেন, এরপর সে উপস্থিত হলো এবং আমাদের পাশে বসে পড়ল। তখন হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, কোন চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না”।
[৪৫] ক্বাত্তাত ও নাম্মাল দুটোর অর্থ একই, অর্থাৎ চোগলখোর।ই.ফা. ১৯৩; ই.সে. ১৯৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তি সাধারণ মানুষের কথাবার্তা শাসনকর্তার কাছে পৌঁছে দিত। লোকেরা মসজিদে বসে তাকে চিনিয়ে দিলে সে এসে তাদের পাশে বসে। তখন হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বাণী শুনিয়ে বলেন, কোনো قَتَّات বা চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এখানে মূল বিষয় হলো মানুষের কথা এমনভাবে অন্যের কাছে পৌঁছানো, যার ফলে ক্ষতি, ভয় বা ঝামেলা তৈরি হয়। সব খবর বলা ভালো কাজ নয়। বরং যে কথা মানুষের নিরাপত্তা, সম্মান বা সম্পর্ক নষ্ট করে, তা থেকে দূরে থাকা দরকার। চোগলখোরী সমাজে অবিশ্বাস বাড়ায় এবং মানুষকে একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের কথা ক্ষতিকরভাবে শাসকের কাছে পৌঁছানো গুরুতর অপরাধ হতে পারে।
- সব কথা বলা দায়িত্ব নয়; ক্ষতিকর কথা চেপে রাখা উত্তম হতে পারে।
- মসজিদেও জিহ্বার হেফাজত ও সতর্কতা জরুরি।
- চোগলখোরী জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার সতর্কতার সাথে এসেছে।
