১১/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৯২ - দীর্ঘ কিয়ামে ধৈর্য ও সালাত
সুর্যগ্রহণের সলাতে নাবী (ﷺ)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে
দীর্ঘ কিয়ামে ধৈর্যের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ১৯৯২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৯৯২
وَحَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَقَالَ قِيَامًا طَوِيلاً يَقُومُ ثُمَّ يَرْكَعُ وَزَادَ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَى الْمَرْأَةِ أَسَنَّ مِنِّي وَإِلَى الأُخْرَى هِيَ أَسْقَمُ مِنِّي .
ইবনু জুরায়জ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে আস্মা (রাঃ) বলেছেন, দীর্ঘ সময় ক্বিয়াম করে পরে রুকূ’ করেছেন। বর্ণনাকারী এ কথাটুকু বাড়িয়েছেন- “আমি মহিলাদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার চেয়ে বয়স্কা মহিলাও আছে আর আমার চেয়ে অধিক রুগ্না মহিলাও রয়েছে”।
ই.ফা. ১৯৭৬, ই.সে. ১৯৮৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সূর্যগ্রহণের সালাতের দীর্ঘ কিয়াম ও ধৈর্যের একটি সুন্দর দিক এসেছে। আগের বর্ণনার মতো এখানে বলা হয়েছে, নবী (صلى الله عليه وسلم) দীর্ঘ সময় দাঁড়ালেন, তারপর রুকু করলেন। আসমা (রাঃ) নিজের অবস্থা দেখছিলেন, আবার মহিলাদের দিকেও তাকাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, তাঁর চেয়ে বয়স্কা নারীও আছেন, আবার তাঁর চেয়ে বেশি অসুস্থ নারীও আছেন। এই অংশটি আমাদের সামনে ইবাদতের সময় ধৈর্য, স্থিরতা ও নিজের নফসকে সামলানোর শিক্ষা আনে। সূর্যগ্রহণের সালাত সাধারণ সালাতের মতো ছোট ছিল না; বরং দীর্ঘ কিয়াম ও রুকুর মাধ্যমে আল্লাহর সামনে বিনয়ের প্রকাশ ছিল। আসমা (রাঃ)-এর এই বর্ণনা দেখায়, সাহাবীরা কষ্ট অনুভব করলেও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে সালাতে ধৈর্য ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্যগ্রহণের সালাতে দীর্ঘ কিয়াম ছিল।
- ইবাদতের সময় ধৈর্য ধরে দাঁড়ানো সাহাবীদের আমলের অংশ ছিল।
- নিজের কষ্টের পাশাপাশি অন্যদের অবস্থা দেখে উৎসাহ নেওয়া যায়।
- গ্রহণের সালাত আল্লাহর সামনে বিনয় ও মনোযোগের শিক্ষা দেয়।
