১১/৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৯৪ - গ্রহণের সালাত ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা

সুর্যগ্রহণের সলাতে নাবী (ﷺ)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে

গ্রহণের সালাত ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৯৯৪

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ، بْنِ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَالنَّاسُ مَعَهُ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً قَدْرَ نَحْوِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدِ انْجَلَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْنَاكَ تَنَاوَلْتَ شَيْئًا فِي مَقَامِكَ هَذَا ثُمَّ رَأَيْنَاكَ كَفَفْتَ . فَقَالَ " إِنِّي رَأَيْتُ الْجَنَّةَ فَتَنَاوَلْتُ مِنْهَا عُنْقُودًا وَلَوْ أَخَذْتُهُ لأَكَلْتُمْ مِنْهُ مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا وَرَأَيْتُ النَّارَ فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ مَنْظَرًا قَطُّ وَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ " . قَالُوا بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " بِكُفْرِهِنَّ " . قِيلَ أَيَكْفُرْنَ بِاللَّهِ قَالَ «بِكُفْرِ الْعَشِيرِ وَبِكُفْرِ الإِحْسَانِ لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ " .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের সাথে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শুরু করে তিনি লম্বা ক্বিয়াম করলেন প্রায় সূরা আল বাক্বারাহ্‌ পড়ার সমপরিমাণ সময়। অতঃপর রুকূ’ করলেন লম্বা রুকূ’। অতঃপর (রুকূ’ থেকে) মাথা উঠালেন। আবার লম্বা ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কিছুটা ছোট। অতঃপর লম্বা রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর সাজদাহ্‌ করলেন।সাজদাহ্‌ থেকে উঠে আবার লম্বা ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কম। আবার লম্বা রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’র চেয়ে কিছু কম। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় ক্বিয়াম করলেন যা প্রথম ক্বিয়াম অপেক্ষা কম। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকূ’ করলেন যা প্রথম রুকূ’ অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। অতঃপর সাজদাহ্‌ করে সালাত সমাপ্ত করলেন। এতক্ষণে সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল।এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দু’টি নিদর্শন। এগুলো কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখ, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর। সাথীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পর দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন?রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। অতএব জান্নাত থেকে ফলের একটি ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তাহলে তোমরা তা পৃথিবী ক্বিয়াম থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে। আমি জাহান্নামও দেখতে পেলাম এবং আজকের ন্যায় এমন ভয়াবহ দৃশ্য আরি কখনও দেখিনি। আমি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে বেশীর ভাগ দেখলাম মহিলা।সাথীরা জিজ্ঞেস করলেন, কি কারণ হে আল্লাহ রাসূল! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাঁদের অকৃতজ্ঞতার কারণে। তিনি বলেন, তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে এবং অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো সারাজীবনও উপকার কর, অতঃপর যদি কখনও তোমার থেকে কোন ত্রুটি দেখে তখন বলে ফেলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন কল্যাণ দেখতে পাইনি।

ই.ফা. ১৯৭৮, ই.সে. ১৯৮৫

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৯৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাতের নিয়ম, আল্লাহর নিদর্শন এবং কৃতজ্ঞতার শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) লোকদের নিয়ে দীর্ঘ কিয়াম, দীর্ঘ রুকু ও সিজদাসহ সালাত আদায় করেন। কিয়াম এত দীর্ঘ ছিল যে প্রথম কিয়াম সূরা বাকারা পড়ার সমপরিমাণ বলা হয়েছে। সালাত শেষে তিনি জানালেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন; এগুলো কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রহণগ্রস্ত হয় না। গ্রহণ দেখলে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। সাহাবীরা তাঁর হাত বাড়ানো ও গুটিয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, তিনি জান্নাত দেখেছেন এবং ফল নিতে চেয়েছিলেন। তিনি জাহান্নামও দেখেছেন এবং সেখানে অনেক নারী দেখেছেন। কারণ হিসেবে স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা ও অনুগ্রহ অস্বীকারের কথা এসেছে। এই হাদিস আমাদের শেখায়, গ্রহণের সময় সালাত ও জিকর জরুরি, আর জীবনে কৃতজ্ঞতা বড় চরিত্রের অংশ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন; এগুলো মানুষের জন্ম-মৃত্যুর কারণে গ্রহণগ্রস্ত হয় না।
  • গ্রহণ দেখা গেলে আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) গ্রহণের সালাতে দীর্ঘ কিয়াম ও রুকু করেছেন।
  • উপকার অস্বীকার ও অকৃতজ্ঞতা গুরুতর নৈতিক সমস্যা।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন