১৩/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৭৫ - ফিতরার পুরোনো আমল
সদাক্বাতুল ফিত্র বা ফিত্রার বর্ণনা
নবীজির যুগের ফিতরা আদায়ের নিয়ম
সহীহ মুসলিম : ২১৭৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২১৭৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي عِياضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِينَا عَنْ كُلِّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ حُرٍّ وَمَمْلُوكٍ مِنْ ثَلاَثَةِ أَصْنَافٍ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ فَلَمْ نَزَلْ نُخْرِجُهُ كَذَلِكَ حَتَّى كَانَ مُعَاوِيَةُ فَرَأَى أَنَّ مُدَّيْنِ مِنْ بُرٍّ تَعْدِلُ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَمَّا أَنَا فَلاَ أَزَالُ أُخْرِجُهُ كَذَلِكَ .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে বর্তমান থাকা অবস্থায় আমরা ছোট-বড়, আযাদ-গোলাম প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তিন ধরনের জিনিস যথা- এক সা' খেজুর অথবা এক সা' পনির অথবা এক সা' বার্লি (যব) দিয়ে ফিতরা আদায় করতাম। আমরা এভাবেই ফিতরা আদায় করে আসছিলাম। অতঃপর মু'আবিয়াহ্ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে রায় দিলেন যে, দু'মুদ্দ গম এক সা' খেজুরের সমান (বিনিময়ের দিক থেকে)। আবূ সা'ঈদ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আমি পূর্বের নিয়মেই ফিতরা আদায় করে আসছি।
ই.ফা. ২১৫৪, ই.সে. ২১৫৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাঁর দেখা ও জানা ফিতরা আদায়ের নিয়ম তুলে ধরেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের মাঝে থাকা অবস্থায় তারা ছোট-বড়, আজাদ-গোলাম প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা’ খেজুর, এক সা’ পনির বা এক সা’ যব দিয়ে ফিতরা আদায় করতেন। তারা এই নিয়মেই চলছিলেন। পরে মু‘আবিয়া (রাঃ) মত দিলেন যে, দুই মুদ গম এক সা’ খেজুরের সমান। কিন্তু আবু সাঈদ (রাঃ) জানালেন, তিনি আগের নিয়মেই ফিতরা আদায় করে আসছেন। এই হাদিসে যাকাতুল ফিতর, এক সা’ মাপ, খাদ্য দিয়ে ফিতরা এবং সাহাবিদের অনুসৃত আমল—এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায়। বিশেষ করে নবীজির যুগের আমল ধরে রাখার গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে এক সা’ খাদ্য দিয়ে ফিতরা দেওয়া হতো।
- খেজুর, পনির ও যবের কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
- দুই মুদ গমকে সমান ধরার মত পরবর্তী সময়ে এসেছে।
- আবু সাঈদ (রাঃ) আগের নিয়ম ধরে রাখাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
