১৩/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৮৭ - যাকাত না দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি
যাকাত আদায় করতে বাধাদানকারীর অপরাধ
যাকাত না দেওয়ার পরিণতি ও সম্পদের হক
সহীহ মুসলিম : ২১৮৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২১৮৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ وَلاَ بَقَرٍ وَلاَ غَنَمٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا إِلاَّ أُقْعِدَ لَهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقَاعٍ قَرْقَرٍ تَطَؤُهُ ذَاتُ الظِّلْفِ بِظِلْفِهَا وَتَنْطِحُهُ ذَاتُ الْقَرْنِ بِقَرْنِهَا لَيْسَ فِيهَا يَوْمَئِذٍ جَمَّاءُ وَلاَ مَكْسُورَةُ الْقَرْنِ " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا حَقُّهَا قَالَ " إِطْرَاقُ فَحْلِهَا وَإِعَارَةُ دَلْوِهَا وَمَنِيحَتُهَا وَحَلَبُهَا عَلَى الْمَاءِ وَحَمْلٌ عَلَيْهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلاَ مِنْ صَاحِبِ مَالٍ لاَ يُؤَدِّي زَكَاتَهُ إِلاَّ تَحَوَّلَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ يَتْبَعُ صَاحِبَهُ حَيْثُمَا ذَهَبَ وَهُوَ يَفِرُّ مِنْهُ وَيُقَالُ هَذَا مَالُكَ الَّذِي كُنْتَ تَبْخَلُ بِهِ فَإِذَا رَأَى أَنَّهُ لاَ بُدَّ مِنْهُ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي فِيهِ فَجَعَلَ يَقْضَمُهَا كَمَا يَقْضَمُ الْفَحْلُ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে সব উট, গরু ও ছাগলের মালিক এর হক আদায় করবে না কিয়ামতের দিন তাকে এক সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে; অতঃপর খুর বিশিষ্ট জন্তু তাকে খুর দিয়ে দলিত মথিত করবে এবং শিং বিশিষ্ট জন্তু তাকে শিং দিয়ে আঘাত করবে। আর সে দিন এর কোন একটি জন্তুই শিং বিহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না।আমরা (সাহাবীগণ) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এদের হক কি? তিনি বললেনঃ এদের নরগুলো (মাদীগুলোর জন্য) বীর্য গ্রহণের জন্য দেয়া, পানি পানের জন্য বালতি চাইলে দেয়া, দুধ পান করতে চাইলে পান করানো, পানি পান করার সময় দুধ দোহন করা এবং গরীব মিসকিনকে দেয়া, আর আল্লাহর পথে পিঠে অপরকে আরোহণ করানো এবং যোদ্ধা বহনের জন্য চাইলে দেয়া। আর যে সম্পদের মালিক তার মালের যাকাত আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন তার এ মাল সম্পদকে একটি টাকপড়া বিষধর অজগর সাপে রূপান্তরিত করা হবে এবং সে তার মালিকের পিছে ধাওয়া করবে।মালিক পালানোর উদ্দেশ্যে যেখানে যাবে এটাও সেখানে গিয়ে উপস্থিত হবে। তাকে বলা হবে, এ হল তোমার সে সম্পদ যাতে তুমি কৃপণতার আশ্রয় নিয়েছিলে এবং যাকাত দেয়া থেকে বিরত ছিলে। অতঃপর যখন সে দেখবে যে সাপের কবল থেকে আর পালানোর কোন উপায় নেই তখন সে তার মুখে হাত ঢুকিয়ে দিবে এবং সাপ তার হাত উটের মত চিবাতে থাকবে।
ই.ফা. ২১৬৬, ই.সে. ২১৬৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সম্পদের হক আদায় না করার ভয়াবহ পরিণতি স্পষ্ট করেছেন। উট, গরু ও ছাগলের মালিক যদি তাদের হক আদায় না করে, কেয়ামতের দিন সেই পশুগুলো তার জন্য শাস্তির কারণ হবে। এখানে পশুর হক বলতে শুধু যাকাত নয়; বরং বীর্য গ্রহণের জন্য নর পশু দেওয়া, পানি তোলার বালতি ধার দেওয়া, দুধ পান করানো, পানি পানের সময় দুধ দোহন করে দরিদ্রকে দেওয়া এবং আল্লাহর পথে বাহন হিসেবে সাহায্য করাও বলা হয়েছে। একইভাবে, যে ব্যক্তি মালের যাকাত আদায় করে না, তার সম্পদ বিষধর সাপের রূপ নিয়ে তাকে তাড়া করবে। হাদিসটি শেখায়, সম্পদ শুধু জমিয়ে রাখার জিনিস নয়; এর মধ্যে গরিবের অধিকার, সমাজের প্রয়োজন এবং আল্লাহর পথে খরচের দায়িত্ব আছে। তাই যাকাত আদায় ও সম্পদের হক পালন মুমিনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাত আদায় না করা কেয়ামতের কঠিন জবাবদিহির কারণ হবে।
- পশুর মালিকের উপর পশু দিয়ে মানুষের উপকার করার দায়িত্বও আছে।
- সম্পদে কৃপণতা করলে সেই সম্পদই আখিরাতে বিপদের কারণ হতে পারে।
- আল্লাহর পথে সম্পদ ও বাহন দিয়ে সাহায্য করা প্রশংসনীয় কাজ।
